পাঞ্জাব কিংসের (Punjab Kings) অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (Glenn Maxwell) তাঁর পুরোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরে আইপিএল ২০২৫-এর প্রথম ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। মঙ্গলবার অমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ম্যাক্সওয়েল গোল্ডেন ডাক (প্রথম বলেই আউট) হয়ে মাঠ ছাড়েন। গত বছর আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামে পাঞ্জাব কিংস তাঁকে ৪.২ কোটি টাকায় কিনেছিল।
Also Read | আইপিএল অভিষেকে ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন প্রিয়াংশ
প্রধান কোচ রিকি পন্টিংয়ের অধীনে এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তাঁর শুরুটা মোটেও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। পঞ্জাব কিংস যখন শক্ত অবস্থানে ছিল, তখন ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাক্সওয়েল আর সাই কিশোরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শূন্য রানে আউট হন। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। রিভিউ নিলে তিনি বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু রিভিউ না নেওয়ায় তিনি এই সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এই গোল্ডেন ডাকের মাধ্যমে ম্যাক্সওয়েল আইপিএল ইতিহাসে একটি অযাচিত রেকর্ড গড়েছেন। এটি তাঁর আইপিএলে ১৯তম ডাক, যা তাঁকে আইপিএল ইতিহাসে সর্বাধিক ডাকের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে গেছে। তাঁর পরে রয়েছেন রোহিত শর্মা এবং দীনেশ কার্তিক, দুজনেরই ১৮টি করে ডাক রয়েছে।
আইপিএল ইতিহাসে সর্বাধিক ডাক:
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল – ১৯
রোহিত শর্মা – ১৮
দীনেশ কার্তিক – ১৮
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আইপিএলের একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ২০১২ সাল থেকে এই লিগে খেলছেন তিনি। দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং পাঞ্জাব কিংসের মতো দলের হয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং যে কোনও বোলিং আক্রমণকে ধ্বংস করার ক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আইপিএল ক্যারিয়ারে তিনি ধারাবাহিকতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভালো দিনে তিনি ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারেন, কিন্তু খারাপ দিনে তাঁর ব্যর্থতা দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
Also Read | আইপিএল অভিষেকে ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন প্রিয়াংশ
এই মরশুমে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিনি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে মরিয়া থাকবেন। প্রধান কোচ রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং এই সম্পর্ক তাঁকে ফর্মে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
ম্যাক্সওয়েলের ব্যর্থতা সত্ত্বেও পাঞ্জাব কিংস এই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখিয়েছে। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ৪২ বলে ৯৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, ওপেনার প্রিয়াংশ আর্যের ৪৭ এবং শশাঙ্ক সিংয়ের ৪৪ রানের দ্রুতগতির ক্যামিওর সুবাদে দলটি ২৪৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। এটি পাঞ্জাব কিংসের আইপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মোট রান। শ্রেয়াস এবং শশাঙ্ক ষষ্ঠ উইকেটে ৮১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে ২৪০ রানের গণ্ডি পার করিয়েছেন। শ্রেয়াসের ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা এবং ৫টি চার, যা গুজরাট টাইটান্সের বোলারদের উপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছে।
বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের এই ব্যর্থতায় হতাশ হলেও পাঞ্জাব কিংসের দলগত পারফরম্যান্সে উৎসাহিত। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে দলটির এই শক্তিশালী শুরু ভক্তদের মনে শিরোপার আশা জাগিয়েছে। ম্যাক্সওয়েলের এই ডাক তাঁর সমালোচকদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিলেও, বাঙালি ভক্তরা আশা করছেন যে তিনি শীঘ্রই ফর্মে ফিরবেন। বাংলায় আইপিএলের জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে, ম্যাক্সওয়েলের মতো তারকার কাছ থেকে বড় কিছু আশা করা স্বাভাবিক।
এই গোল্ডেন ডাক ম্যাক্সওয়েলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তাঁর ১৯তম ডাক তাঁকে আইপিএলের ইতিহাসে একটি অপ্রত্যাশিত তালিকার শীর্ষে নিয়ে গেছে। তবে, তিনি একজন ম্যাচ-জয়ী খেলোয়াড় এবং তাঁর সম্ভাবনা অসীম। পাঞ্জাব কিংসের এই মরশুমে তাঁর অলরাউন্ড ক্ষমতার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তাঁর অফ-স্পিন এবং ফিল্ডিংও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রিকি পন্টিংয়ের নির্দেশনায় ম্যাক্সওয়েল যদি তাঁর পুরোনো ছন্দ ফিরে পান, তবে তিনি পাঞ্জাব কিংসের জন্য একটি বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এবং দলের শিরোপার স্বপ্নে অবদান রাখতে ম্যাক্সওয়েলকে এই মরশুমে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে হবে।
ম্যাক্সওয়েলের ব্যর্থতা সত্ত্বেও পাঞ্জাব কিংস এই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেছে। শ্রেয়াস আইয়ারের ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস এবং প্রিয়াংশ-শশাঙ্কের ক্যামিও দলকে ২৪৩ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছে দিয়েছে। এই স্কোর গুজরাট টাইটান্সের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পাঞ্জাব কিংসের এই শুরু দেখে ভক্তরা আশাবাদী যে, এই মরশুমে দলটি তাদের প্রথম শিরোপার খরা কাটাতে পারে।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের এই গোল্ডেন ডাক তাঁর জন্য একটি হতাশার মুহূর্ত হলেও, পাঞ্জাব কিংসের দলগত প্রচেষ্টা ম্যাচে তাদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ম্যাক্সওয়েলের কাছে এখনও পুরো মরশুম বাকি রয়েছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন, তিনি কীভাবে এই ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়ান এবং পাঞ্জাব কিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান।