মণিপুরে পৃথক অভিযানে ৫ জঙ্গি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

মণিপুরে (Manipur) জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৃথক অভিযানে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং…

Militants Arrested in Manipur

মণিপুরে (Manipur) জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৃথক অভিযানে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে বিষ্ণুপুর জেলার কুম্বি তেরাখং এলাকায়, যেখানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পিপলস রেভোলিউশনারি পার্টি অফ কাঙ্গলেইপাক (প্রো) বা PREPAK (PRO)-এর তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার বিষ্ণুপুর জেলার কুম্বি তেরাখং এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এই তিন জঙ্গিকে হাতেনাতে ধরে। গ্রেফতারকৃতদের নাম ওইনাম অবুং মৈতৈ (৩১), ইউমলেমবাম রমেশ সিং (৪৭) এবং আরকে নেভি মৈতৈ (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, এই তিনজনই PREPAK (PRO)-এর সক্রিয় সদস্য এবং এদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি .৩০৩ লাইট মেশিন গান (LMG), দুটি .৩০৩ LMG ম্যাগাজিন এবং ২০টি গোলাবারুদ। এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই জঙ্গিরা সম্ভবত কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের পরিকল্পনা করছিল।

   

PREPAK (PRO) হল মণিপুরের একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে একটি স্বাধীন কাঙ্গলেইপাক (মণিপুরের প্রাচীন নাম) গঠনের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এই গোষ্ঠীটি প্রায়ই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, সরকারি কর্মীদের হুমকি এবং অস্ত্র সংগ্রহের মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য পরিচিত।

Advertisements

এই গ্রেফতারি মণিপুরে চলমান জঙ্গি-বিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ দমনের চেষ্টা করছে। বিষ্ণুপুর ছাড়াও অন্যান্য জেলায় আরও দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তবে তাদের পরিচয় এবং কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মণিপুরে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার ভাব ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই বছরে রাজ্যে কুকি ও মৈতৈ সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছিল। এই অবস্থায় জঙ্গি সংগঠনগুলো সুযোগ নিয়ে তাদের কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মণিপুরে জঙ্গি দমনের কাজ সহজ নয়। রাজ্যের পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান জঙ্গিদের জন্য আত্মগোপন ও অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ করে দেয়। এছাড়া, স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব ও অসন্তোষ জঙ্গি সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহের পথ সুগম করে। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাম্প্রতিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালানো হতে পারে। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, জঙ্গিরা এখনও রাজ্যে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী আরও তৎপর হয়েছে। বিষ্ণুপুরের এই অভিযান সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে রাজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এই ঘটনা বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মণিপুরের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও আর্থিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। তাই, রাজ্যে শান্তি ফিরলে তা উভয়ের জন্যই উপকারী হবে। আপাতত, নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্য মণিপুরের জনগণের জন্য একটি আশার আলো হয়ে উঠেছে।