মুম্বই এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম দমকলের

মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বইয়ের শিরাভানে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এমআইডিসি) এলাকায় গতকাল, শুক্রবার রাত ১১টায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Mumbai Fire) ঘটনা ঘটেছে। আজ, শনিবার সকাল ৮টা…

https://kolkata24x7.in/wp-content/uploads/2025/03/fire-1.jpg

মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বইয়ের শিরাভানে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এমআইডিসি) এলাকায় গতকাল, শুক্রবার রাত ১১টায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Mumbai Fire) ঘটনা ঘটেছে। আজ, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দমকল বাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দমকল কর্মকর্তা এস এল পাতিল জানিয়েছেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থলে ১২টি দমকল ইঞ্জিন কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।” এই ঘটনার পর থেকে দমকল বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমেছে, তবে এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন সপ্তাহের শেষে হঠাৎই বাড়ল সোনা রুপোর দাম

   

IPL উদ্বোধনী ম্যাচে কাঁটা আবহাওয়া

Advertisements

শিরাভানে অগ্নিকাণ্ড: চলছে তীব্র প্রচেষ্টা
শুক্রবার রাতে শিরাভানের এমআইডিসি এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুন সুবোধা কোম্পানি নামে একটি শিল্প ইউনিটে শুরু হয়েছিল। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকলের ১০-১২টি ইঞ্জিন কাজে লাগানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে পাশের ইউনিটগুলোতে এটি যাতে না পৌঁছায়, সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো আহত বা নিহতের খবর না এলেও, ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, “রাত থেকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আমরা চিন্তিত যে এটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।” দমকল কর্মকর্তা পাতিল জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগতে পারে, কারণ শিল্প এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ বা দাহ্য উপকরণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিরাভানের এই ঘটনা মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে সর্বশেষ। গত বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকায় মহাকালী গুহার কাছে একটি শিল্প ইউনিটে আগুন লেগেছিল। সেখানেও দমকল বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে নেমেছিল। ওই ঘটনায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে, তবে এটি শিল্প এলাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে।

একই দিনে, মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আজাদ চৌকে একাধিক আসবাবপত্রের দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। দমকল পরিদর্শক দিলীপ জানান, “আসবাবপত্রের দোকানে আগুন লেগেছিল। সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে এটি শুরু হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে পুরোপুরি নেভানোর কাজ চলছে।” এই ঘটনায় দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উদ্বেগ

মহারাষ্ট্রে শিল্প এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শর্ট সার্কিট, রাসায়নিক পদার্থের অব্যবস্থাপনা, এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি এই ধরনের ঘটনার প্রধান কারণ। শিরাভানের ঘটনায় আগুনের কারণ এখনও অজানা থাকলেও, এটি রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থ থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নবি মুম্বইয়ের এমআইডিসি এলাকায় অতীতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের মে মাসে পাওনে এমআইডিসি এলাকায় একটি রাবার কারখানায় আগুন লেগে পাশের রাসায়নিক কোম্পানি ও একটি কোল্ড স্টোরেজে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায়ও দমকলের ব্যাপক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো শিল্প এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা বাড়ানোর জরুরতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

সরকারি ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
মহারাষ্ট্র সরকার এই ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা শিল্প ইউনিটগুলোতে নিরাপত্তা মান পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিবার আগুন লাগার পর তদন্ত হয়, কিন্তু কার্যকর সমাধান হয় না।” সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিরাভানের এক বাসিন্দা বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের জীবন ও সম্পত্তির জন্য হুমকি। শিল্প কারখানার কাছে বসবাস করা এখন ভয়ের ব্যাপার।” অনেকে দাবি করেছেন, শিল্প এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নিয়মিত পরিদর্শন জরুরি।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
শিরাভানের এই অগ্নিকাণ্ড শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমআইডিসি এলাকায় বহু শ্রমিক কাজ করেন, এবং এই ধরনের ঘটনা কারখানার ক্ষতি ও অস্থায়ী বন্ধের কারণ হতে পারে। এছাড়া, আগুন থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলছে।

নবি মুম্বইয়ের শিরাভানে এমআইডিসি এলাকায় চলমান অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মহারাষ্ট্রে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শিল্প নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। সরকার ও শিল্প মালিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।