কেন্দ্রীয় বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) দশম শ্রেণির পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যাতে তারা প্রথম পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল পেলেও পরবর্তীতে নিজের ফলাফল উন্নত করার সুযোগ পাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ এর আওতায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার চাপ কমানোর এবং তাদের সফল হওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আনা হচ্ছে।
নতুন প্রস্তাব অনুসারে, CBSE অধীনে আগামী বছর থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা এক বছরে দুটি পরীক্ষা দিতে পারবে। এই পরীক্ষাগুলি হবে ফেব্রুয়ারি এবং মে মাসে। এর ফলে, যারা প্রথম পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে কম নম্বর পাবে, তাদের কাছে আরও একবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা প্রথম পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে, কিছু মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষায় বসে নিজের ফলাফল সংশোধন করার সুযোগ পাবে।
এই পরিবর্তনটি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার আগের দিন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পায় না, কিন্তু দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার এই সুযোগ তাদেরকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। তারা জানবে, যদি প্রথম পরীক্ষায় তারা তেমন ভালো ফলাফল না করতে পারে, তবে আরও একটি সুযোগ তাদের কাছে থাকবে। ফলে, প্রথম পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে তারা নিজেরা আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবে।
প্রথম পরীক্ষার পর ফলাফল সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বরং, এটি ডিজি লকারে আপলোড করা হবে। দ্বিতীয় পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত রেজাল্ট ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, কেউ যদি প্রথম পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট থাকে, তবে তারা দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ‘অপট আউট’ বা পরীক্ষায় না বসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এই নতুন পদ্ধতির লক্ষ্য হলো, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে বেশি চাপ অনুভব না করে এবং পরীক্ষার প্রতি তাদের ভয় কমে যায়। একদিকে যেমন এটি তাদেরকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, তেমনি অন্যদিকে এটি তাদেরকে চাপমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।
মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপস্থিতিতে এই নতুন পরীক্ষার খসড়া পলিসি প্রকাশ করা হয়েছে। CBSE ওয়েবসাইটে এই খসড়া পলিসির উপর মতামত জানাতে আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তাই, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল পক্ষকে এই খসড়া পলিসির বিষয়ে তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে।
এই পরিবর্তনটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ছাত্রদের জন্য আরও একটি সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে, তাদের পরীক্ষার প্রতি মনোভাব অনেকাংশে ইতিবাচক হবে এবং তারা পরবর্তী পরীক্ষাগুলিতে আরও ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। ফলে, শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত পরিবেশে শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।