যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কিছু ছাত্র অঙ্ক পরীক্ষায় ফেল করার পর স্কলারশিপের জন্য পাশ করানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এই বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে জানা যায়, তাঁরা উভয়েই অঙ্ক পরীক্ষায় ফেল করেছেন। মার্কশিটে জালিয়াতি করে নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন গ্রহণ করেনি।
এরপর ওই ছাত্ররা উচ্চ শিক্ষা দফতরে যান, যেখানে একই অভিযোগ উঠে আসে। মার্কশিটের এই জালিয়াতির বিষয়টি জানার পর উচ্চ শিক্ষা দফতর বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করে এবং একে কেন্দ্র করে আরও কড়াকড়ি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পর থেকে মার্কশিটের সঠিকতা নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্ররা সিনিয়রদের প্রভাবের কারণে এই পথে হেঁটেছিলেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ছাত্র সেমিস্টারের অঙ্ক পরীক্ষায় ফেল করেন বা সাপ্লিমেন্টারি পান, তাহলে তিনি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এ বছর শতাধিক ছাত্র অঙ্কে সাপ্লিমেন্টারি পেয়েছেন, যার ফলে তারা কেউই স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হতে পারেননি।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এদের মধ্যে কোনো ছাত্রকে স্কলারশিপ দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তের পর কিছু ছাত্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে তাদের দাবি জানাতে থাকেন। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্র সোমবার বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে দাবি করে তোলেন, অঙ্ক পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রদের পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে তারা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারে।
উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত এই আন্দোলনকে অবাঞ্ছিত বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলীর বিপরীতে। তিনি বলেছেন, “এ ধরনের দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”