শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ফুলবাড়ী ব্যাটেলিয়ান মোড়ে সোনা পাচার চক্রের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম শ্রবণ কুমার, যিনি বিহারের দারভাঙ্গার বাসিন্দা। পুলিশ গোপন সূত্র থেকে খবর পেয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রবণ কুমার চারটি সোনার বিস্কুট পায়ের সঙ্গে কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছিল। পাচারের উদ্দেশ্যে সে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল ফুলবাড়ী ব্যাটেলিয়ান মোড়ে। গোপন সূত্রের তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় এবং তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তার কাছ থেকে মোট ৪৭০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
নিউ জলপাইগুড়ি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “গোপন সূত্র থেকে আমরা খবর পাই একজন ব্যক্তি সোনা পাচারের চেষ্টা করছে। আমরা তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করি। তাঁর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনার উৎস এবং পাচারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।”
শ্রবণ কুমারকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে এবং সোনার উৎস ও পাচারের রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। পুলিশের ধারণা, এই ঘটনার মাধ্যমে একটি বড় পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের অভিযান অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুলিশের এই সাফল্যে আমরা খুশি।”
এই ঘটনায় পুলিশের সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এর পিছনে থাকা চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ আশা করছে, এই অভিযানের মাধ্যমে সোনা পাচারের একটি বড় চক্র ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় পুলিশের সাফল্য অপরাধ দমনে তাদের দক্ষতা এবং সতর্কতার পরিচয় দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই তদন্ত কতটা সাফল্য পায় এবং পাচার চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার করা যায় কিনা।