ভারত এবং যুক্তরাজ্য ফের তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা গত বছর মে মাসে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার জানান, দুই দেশ তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পীযূষ গোয়েল এই তথ্যটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (প্রাক্তন টুইটার) এ শেয়ার করেন। তিনি জানান, “ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব জনাথন রেনল্ডসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে স্বাগত জানিয়ে খুবই আনন্দিত। আমরা একটি কর্মমুখী দিন পার করছি আলোচনায়।” পরবর্তীতে, মন্ত্রী জানান যে তিনটি আলাদা বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে, যার মধ্যে রয়েছে FTA, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং ডবল কর পরিহার চুক্তি।
যখন যুক্তরাজ্য সরকারী কর্মকর্তারা FTA চুক্তি নিয়ে কথা বলেন, তখন তারা বলেন, “ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাজ্যের জন্য, বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, যা ক্রমাগত অস্থির এবং বহু-পোলার হয়ে উঠছে। আমরা আবারও ভারত-যুক্তরাজ্য FTA আলোচনা শুরু করেছি। এই আলোচনা মাধ্যমে আমরা একটি পারস্পরিক উপকারী চুক্তি নিশ্চিত করতে চাই।”
ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে FTA চুক্তি নিয়ে আলোচনা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছিল এবং এটি ২৬টি অধ্যায় নিয়ে গঠিত, যা পণ্য, সেবা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত। তবে, গত বছরের মে মাসে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের কারণে এই আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে এই চুক্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।
পীযূষ গোয়েল আরও বলেন, “কোনো ভাল চুক্তি শেষ করার জন্য কখনই খুব দেরি হয় না, তবে খুব তাড়াহুড়ো করাও উচিত নয়। আমরা দ্রুত এগিয়ে যাব, কিন্তু কোনোভাবে তাড়াহুড়ো করব না।” মন্ত্রী জানিয়েছেন, FTA চুক্তি সম্পাদন এবং অন্যান্য আলোচনাগুলির জন্য সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সেগুলির মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হবে।
এই চুক্তি ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি করতে সাহায্য করবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক অনেকটাই শক্তিশালী, এবং একে অন্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি শেয়ারের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী যে এই আলোচনা শেষ হলে উভয় দেশই লাভবান হবে। ভারতের পণ্যের বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার পাবে, আবার যুক্তরাজ্যও ভারতীয় বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারবে। বিশেষ করে, ভারতের প্রযুক্তি এবং সেবা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়াও, এই চুক্তি উভয় দেশের জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়ক হতে পারে, এবং দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুসংহত হবে। ফ্রি ট্রেড চুক্তি (FTA) সাইন হলে উভয় দেশেই বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে আরও সুবিধা লাভ হবে।
এছাড়াও, এই চুক্তি দুটি দেশের মধ্যে অন্যান্য খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশ খাতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি FTA চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং উভয় দেশের বাণিজ্য এবং অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
অতএব, ভারতের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দেশটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি করবে।