রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (ICC Champion Trophy 2025) কুলদীপ ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচে অসাধারণ বোলিং প্রদর্শন করেন এবং পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো ঘুরিয়ে দেন। তিনি ৯ ওভার বল করে ৩/৪০ রানের দারুণ স্পেল তুলে নিয়ে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান, কারণ তিনি ভারতের পঞ্চম স্পিনার হিসেবে ৩০০ আন্তর্জাতিক উইকেট অর্জন করলেন।
এছাড়াও কুলদীপ যাদব ভারতের কিংবদন্তি স্পিনারদের লিস্টে অনিল কুম্বলে (৯৫৩), রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৭৬৫), হারভজন সিং (৭০৭) এবং রবীন্দ্র জাদেজা (৬০৪) পাশে নিজের নাম তোলেন, যারা ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। মোট মিলিয়ে কুলদীপ যাদব ৩০০ আন্তর্জাতিক উইকেট অর্জন করা ১৩ তম ভারতীয় ক্রিকেটার।
ম্যাচ শেষে কুলদীপ যাদব বললেন, “কোনও বিশেষ পরিকল্পনা ছিল না। প্রথম স্পেলে আমি সাধারণত চাইনাম্যান বোলিং করেছি। আমার একটি ভেরিয়েশনও আছে, সেটা হল ‘রং ওয়ান’। ‘রং ওয়ান’-এর সঙ্গেই টপ স্পিনও করেছি। সালমানের প্রথম উইকেটটি ছিল একটি সাধারণ চাইনাম্যান। দ্বিতীয় উইকেটটি ছিল শাহীনের প্রথম বল। আমি উইকেট টার্গেট করে বোলিং করছিলাম। আমি ভাবছিলাম, রং ওয়ান মারলে ভালো হবে। আমি চিন্তা করছিলাম কোন উইকেটে ব্যাটসম্যানকে আঘাত করা সম্ভব হবে। আসলে স্লো ট্র্যাকে ইনকামিং ডেলিভারিগুলো খুব কঠিন হয়ে যায়। এটিই ছিল আমার পরিকল্পনা।”
এছাড়াও ৩০ বছর বয়সী কুলদীপ পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন তা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পরিকল্পনা ছিল খুব সোজা। বিশেষত এমন উইকেটে, আপনি শেষ ১০ ওভারে বোলিং করতে প্রায়ই প্রথম পছন্দ হয়ে যান। অধিনায়কও বলেছিলেন, যখন আপনার কাছে ভেরিয়েশন থাকে, তখন স্পিনারের বিরুদ্ধে আঘাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, আমার জন্য এটি ভালো ছিল। উইকেটটি স্লো ছিল। আমি চেষ্টা করছিলাম পেস এবং রং ওয়ান বা টপ স্পিন মিশিয়ে বোলিং করতে। যদি এক বা দুইটি উইকেট মাঝখানে পেয়ে যাই, তাহলে ব্যাটসম্যানরা আমাকে ব্লক করতে থাকে। শেষ ১০ ওভারে তারা ঠিক সেটাই করছিল। অধিনায়ক সরাসরি আমাকে বলেছিলেন, আমি উইকেট চাই। যদি তুমি দুটো উইকেট এনে দিতে পারো, তাহলে সেটা ভালো হবে।”
এটি ছিল কুলদীপ যাদবের জন্য এক উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। তিনি শুধু তার দলকে জয়ে সহায়তা করেননি, বরং একটি বড় ব্যক্তিগত অর্জনও করেছেন। তার বোলিং দক্ষতা এবং ম্যাচের প্রতি মনোযোগী পরিকল্পনা তাকে ভারতীয় দলের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ করে তুলেছে।