নয়াদিল্লি: ভারতে ক্রেডিট কার্ড প্রতারণা দিন দিন বেড়ে চলেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে ইন্টারনেট লেনদেনের মাধ্যমে। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের দ্রুত বিস্তার প্রতারণার ফাঁদ আরও গভীর করেছে৷ এখন লোক ঠকনো আরও সহজ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে অর্থ ও তথ্য চুরির মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের কিছু আইনি অধিকার রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। জানুন, কীভাবে আপনি নিজেকে এই ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
১. গোপনীয়তা অধিকার ও অবাঞ্ছিত ক্রেডিট কার্ড থেকে সুরক্ষা
গোপনীয়তা অধিকার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো ব্যাংক বা নন-ব্যাংকিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC) গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া অবাঞ্ছিত ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে না।
যদি কোনো কার্ড গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই ইস্যু করা হয় এবং তা ব্যবহৃত হয়, তবে সেই লেনদেনের জন্য ব্যাংক দায়ী থাকবে। ওই চার্জ ফেরত দিতে হবে।
এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে “ডু নট কল রেজিস্ট্রি” (DNCR) মেনে চলতে হবে। কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
২. প্রতারণামূলক লেনদেনের ক্ষেত্রে সীমিত দায়
যদি কোনো অননুমোদিত লেনদেন ঘটে এবং কার্ড বা পিন এখনও গ্রাহকের কাছে না পৌঁছায়, তবে গ্রাহক দায়ী হবে না।
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নিয়ম অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে ক্ষতির জন্য দায়ী করা যাবে না।
যদি কোনো লেনদেন নিয়ে বিরোধ থাকে, তবে আপনি ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।
অভিযোগের সময়সীমা পার হলে, গ্রাহকের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। তাই, কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন দেখে দেরি না করে ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
এছাড়া, যদি কোনো প্রতারণা ঘটলে, আপনি জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (https://cybercrime.gov.in) এ অভিযোগ জানাতে পারেন।
৩. ভোক্তা সুরক্ষা আইনে আইনি প্রতিকার
ভোক্তা সুরক্ষা আইন, ২০১৯ গ্রাহকদের আরও সুরক্ষা দেয়। এই আইনে অসাধু বাণিজ্য, মিথ্যা বাণিজ্য বর্ণনা এবং অস্বচ্ছ চার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রাহকরা জেলা বা রাজ্য স্তরে অভিযোগ করতে পারেন এবং ব্যাংকিং ওম্বডসম্যান স্কিমের অধীনে আইনজীবী ছাড়াই প্রতিকার পেতে পারেন।
এছাড়া, ব্যাংক ও NBFCs-কে ন্যায্য ঋণ আদায় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। যদি কোনো ব্যাংক গ্রাহকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে, তা হলে শাস্তি হতে পারে।
৪. নিরাপদ লেনদেনের জন্য পেমেন্ট সিস্টেম
পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট, ২০০৭-এর অধীনে নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে, কোনো ধরনের প্রতারণা বা সিস্টেমের ব্যর্থতা ঘটলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের দায়ী করা হবে।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য তাদের আইনি অধিকার সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতারণা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে এসব অধিকার জানলে উপকার হবে।
কোনো ধরনের প্রতারণা বা অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এর মাধ্যমে আপনি নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ন্যায্য সেবা পাবেন।