তিন জেলার নির্বাচন স্থগিত, শান্তনু ও অর্জুনের এলাকা নিয়ে বিজেপির দুশ্চিন্তা

বাংলা রাজনীতিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যস্ত। বিশেষ করে বিজেপি,…

BJP Yet to Elect Presidents for 4 Organisational Districts

বাংলা রাজনীতিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যস্ত। বিশেষ করে বিজেপি, যেটি রাজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার জন্য সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছে। দলের জেলা সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও কিছু সাংগঠনিক জেলার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা সম্প্রতি তাদের ৩৯টি সাংগঠনিক জেলার জেলা সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করলেও, ৪টি জেলার নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। এই চারটি সাংগঠনিক জেলা হলো: বনগাঁ, ব্যারাকপুর, যাদবপুর এবং দার্জিলিং। বিজেপির সূত্রে জানা গেছে, এই চারটি জেলায় ৫০ শতাংশের বেশি মণ্ডল নির্বাচন হয়নি, তাই জেলা সভাপতি নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

   

বনগাঁ এবং দার্জিলিংয়ে সাংসদ, ব্যারাকপুরে অর্জুন সিংয়ের এলাকা

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বনগাঁ এবং দার্জিলিং সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির সাংসদ রয়েছেন। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের এলাকা, এবং দার্জিলিং জেলার সাংসদ রাজু বিস্তের। ব্যারাকপুরে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের এলাকা রয়েছে। এই চারটি জেলার নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ এই এলাকার সাংগঠনিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে রেখেই বিজেপির আগামী নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করা প্রয়োজন।

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গেছে, মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন না হওয়ার কারণে জেলা সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে গেছে। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, রাজ্যে মোট ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জায়গায় মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেছে, কিন্তু বাকি কিছু জায়গায় নির্বাচন বন্ধ হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভিতরে কিছু সমস্যার কারণে নির্বাচন হয়নি, তবে এই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

সমস্যা মিটবে, আশ্বস্ত সুকান্ত মজুমদার

বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, কিছু জায়গায় সমস্যা থাকলেও তা শিগগিরই মিটে যাবে। তিনি বলেন, “যে সব জায়গায় সমস্যা হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান হবে। কিছু ধাপ বাকি রয়েছে, এরপর জেলা সভাপতি নির্বাচন করা হবে।” সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, “যত তাড়াতাড়ি জেলা সভাপতি নির্বাচিত হবে, তত দ্রুত রাজ্য সভাপতির নামও ঘোষণা করা হবে।”

দলীয় ভিতরে অস্থিরতা: মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের জটিলতা

বিজেপির ভিতরে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের বিষয়ে কিছু অস্থিরতা দেখা গেছে, যার ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আটকে গেছে। কিছু এলাকায় দলের নেতাদের মধ্যে একাধিক মতবিরোধ এবং সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের সাথে সাংগঠনিক স্তরের নেতাদের মেলবন্ধনের অভাব এই সমস্যাগুলির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের মধ্যে এই ঝামেলা কাটিয়ে ওঠার জন্য রাজ্য নেতৃত্বে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিণতি

বিজেপি যদি এই সাংগঠনিক নির্বাচনের সমস্যাগুলি সমাধান করতে না পারে, তাহলে এর প্রভাব দলের রাজ্যজুড়ে সাংগঠনিক ক্ষমতার ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে, যেসব এলাকায় বিজেপির সাংসদরা রয়েছেন, সেখানে দলীয় সংগঠন যদি দুর্বল হয়, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

তবে, সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছেন যে, সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে এবং দলীয় সংগঠন পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এখন দেখার বিষয় হল, এই সমস্যাগুলির সমাধান হতে কতটা সময় নিবে এবং বিজেপি তার সাংগঠনিক শক্তিকে কতটা সুষ্ঠুভাবে পুনর্গঠন করতে পারে।