পাকিস্তানে হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে হিন্দু-পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবিরোধী তকমা

পাকিস্তানের করাচির দাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হোলি উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হিন্দু ছাত্রদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে, যেখানে…

পাকিস্তানে হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে হিন্দু-পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবিরোধী তকমা

পাকিস্তানের করাচির দাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হোলি উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হিন্দু ছাত্রদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনাটি পাকিস্তানে বড় আকারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বড়ো বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

করাচির দাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্ররা হোলি উৎসব উদযাপন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। নোটিশে ছাত্রদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ” করার অভিযোগ তোলা হয়। যা অনেকেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, হোলি উদযাপনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যেখানে তাদের “রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান” দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

   

এই ঘটনার পর পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য লাল মালহি এক্স হ্যান্ডেলারে (টুইটারে) প্রশ্ন তোলেন, “হলির উৎসব এখন কি অপরাধে পরিণত হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ে হোলি উদযাপন কি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে?” তার এই বক্তব্য সমাজে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি চলমান বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisements

পাকিস্তানে হিন্দু জনগণের প্রতি এই ধরনের বৈষম্য নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও, হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রায়ই নানা ধরনের বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় হিন্দুরা দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। শহরাঞ্চলে তাদের সামান্য চাকরির সুযোগ এবং সামাজিক বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে হিন্দু মহিলাদের অপহৃত এবং জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে. যা পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই, আর অনেক হিন্দু আইনি বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সম্মুখীন হন, কারণ দেশটির বিচার ব্যবস্থায় অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব থাকে।

দাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হোলি উদযাপন নিয়ে বিতর্কের পর, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা শুধুমাত্র “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা” রক্ষা করতে এই শোকজ নোটিশ জারি করেছে। তবে অনেকেই এ পদক্ষেপকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আক্রমণ এবং রাষ্ট্রের প্রতি বিরোধিতার একটি অযৌক্তিক অভিযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের প্রতি সামগ্রিক বৈষম্য ও অযৌক্তিক দমন-পীড়নের একটি নতুন দৃষ্টান্ত।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক পাকিস্তানি নাগরিক এবং মানবাধিকার সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা পাকিস্তানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে চলমান আলোচনা আরও তীব্র করে তুলেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি এই ধরনের বৈষম্য এবং সহিংসতার ঘটনা পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন এবং পাকিস্তানের সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।