ইজরায়েল (Israel) বৃহস্পতিবার গাজা থেকে চার মৃত পণবন্দির মৃতদেহ গ্রহণ করেছে। মৃতদেহগুলি রেড ক্রসের মাধ্যমে ইজরায়েল প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) এবং শিন বেত (ISA) বাহিনী তাদের গাজা উপত্যকা থেকে নিয়ে আসেন। এই মৃতদেহগুলি বর্তমানে ইজরায়েল পৌঁছেছে এবং সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক মেডিসিন কেন্দ্রের মাধ্যমে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে, এই দুর্দান্ত ক্ষতি ইজরায়েলের প্রতিটি ঘরেই অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই মৃতদেহগুলি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সেইসব পরিবারের জন্য যারা দীর্ঘ ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তাদের প্রিয়জনদের ধরে রেখেছিল।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী অফিসের পক্ষ থেকে এক পোস্টে জানানো হয়, “ইজরায়েল রেড ক্রসের মাধ্যমে চার মৃত hostages এর মৃতদেহ গ্রহণ করেছে। মৃতদেহগুলি IDF এবং ISA বাহিনীর মাধ্যমে গাজা উপত্যকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে, যেখান থেকে সেগুলি ইজরায়েলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক মেডিসিন কেন্দ্রের দিকে পাঠানো হবে।”
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে বলেন, “আমার ভাই ও বোনেরা, প্রিয় নাগরিকেরা, আজকের দিনে আমরা সবাই একত্রিত, একটি শোকের সাথে যা বহন করা কঠিন। আজ, ইজরায়েলের প্রতিটি বাড়ি মাথা নত করেছে। আমরা আমাদের চারজন hostage এর শোকের মধ্যে আছি।” তিনি আরও বলেন, এই দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন, কারণ ইজরায়েল চার মৃত hostages ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত।
পূর্বে, ইজরায়েল জানিয়েছিল যে, তারা গাজা থেকে মৃত hostages এর একটি তালিকা পেয়েছে এবং এর ভিত্তিতে মৃতদেহগুলি বৃহস্পতিবার ইজরায়েলে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু শোকপ্রকাশ করে বলেন, এই দিনটি দেশের জন্য এক অতি কঠিন দিন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশের সব মানুষ শোকস্তব্ধ।
ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) তাদের এক পোস্টে জানায়, “একটি ছোট সময় আগে, IDF এবং ISA বাহিনী গাজা সীমান্ত পার করে চার মৃত hostages এর মৃতদেহ নিয়ে এসেছে এবং বর্তমানে সেগুলি ফরেনসিক মেডিসিন কেন্দ্রে শনাক্তকরণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে IDF প্রতিনিধিরা রয়েছেন।” তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, “IDF মৃত hostages গুলিকে সম্মান জানাচ্ছে, যেহেতু তারা সন্ত্রাসীদের হাতে ৫০০ দিনেরও বেশি সময় বন্দী ছিল।”
যেহেতু নিহতদের পরিবারের সঙ্গে এই সময়ে গভীর শোক অনুভূত হচ্ছে, ইজরায়েল সরকার এবং সেনাবাহিনী তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং তাদের এই শোকের সময়ে সর্বোচ্চ সহানুভূতি প্রদান করছে।
এই ঘটনার পেছনে যে দীর্ঘ সময়কাল ছিল, তা আরও মারাত্মক অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে যে চারজন গাজা শাসকদের হাতে বন্দী ছিল, তারা অবশেষে বাড়ি ফিরে আসছে তাদের মৃতদেহ নিয়ে। যদিও এটি একটি রেহাই নয়, তবে অনেকের কাছে এটি একটি স্বীকৃতি যে তাদের প্রিয়জনরা মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, তবে আফসোসের সঙ্গে তারা জীবন হারিয়েছেন।
বিশ্বের প্রতি প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এই খবরের উপর প্রতিক্রিয়া এসেছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশ এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে। যদিও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর, তবুও অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এটি বিশ্ব শান্তির জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।
ইজরায়েল সরকার এবং সেনাবাহিনী এখন মৃতদেহগুলির যথাযথ সম্মান জানাচ্ছে এবং শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তারা যথাযথ ধর্মীয় এবং সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করবে। পরিবারের সদস্যদের সহায়তা প্রদানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্যও প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা এই কঠিন সময় পার করতে পারেন।
এদিকে, গাজা পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আরও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইজরায়েল এবং গাজা উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলেও, এই ধরনের ঘটনাগুলি শান্তির পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই ঘটনাটি একটি বিশেষ মুহূর্তের মধ্যে একটি দেশের শোক এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যের চিত্র। ইজরায়েল চার মৃত hostages এর মৃতদেহ ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে পৃথিবী আবারও শিক্ষা পেয়েছে, যে শান্তির দিকে একটি নিরবধি যাত্রা চালাতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো প্রয়োজন।