বিনীত গোয়েলের মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম আর জি কর কাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন। এই মামলাটি ছিল ‘অভয়া কাণ্ড’ সংক্রান্ত, যেখানে বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Calcutta HC Grants Relief to Former Commissioner Vineet Goyal in Contempt Case

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম আর জি কর কাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন। এই মামলাটি ছিল ‘অভয়া কাণ্ড’ সংক্রান্ত, যেখানে বিনীত গোয়েল, তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার, বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি ছিল তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে। সেই মামলায় বিচারপতি শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি চলছিল, তবে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এখন সেই বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপট শুরু হয় আর জি কর হাসপাতালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা থেকে, যেখানে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠেছিল। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল, পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করেছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, বিনীত গোয়েল এবং তার অধীনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বের প্রতি অবহেলা এবং তদন্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

   

এই মামলায় নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করার জন্য জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়, যেখানে আদালতকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এবং শাস্তির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। মামলার শুনানি চলাকালীন, আদালত কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্ন উঠেছিল, বিনীত গোয়েল বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কে— রাজ্য সরকার নাকি কেন্দ্রীয় সরকার?

আদালত কেন্দ্রকে জানায় যে, রাজ্য সরকারই এই বিষয়টি পরিচালনা করবে এবং যদি রাজ্য কোন পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। আদালত বিনীত গোয়েল এর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাভঙ্গের দিক থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত জানতে চেয়েছিল।

শুনানি চলাকালীন, প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর বদলে নতুন বেঞ্চে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘটনাটি আদালতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ প্রধান বিচারপতির ব্যক্তিগত কারণে বেঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

এদিকে, মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর, কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, এই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের জন্য রাজ্য সরকারই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। যদি রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে এবং সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানমের সরে দাঁড়ানোর পর, আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য একটি নতুন বেঞ্চ গঠন করবে এবং মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আদালত নির্দেশনা দেবে। মামলার ভবিষ্যৎ এবং এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের তদন্তের ফলাফল কেমন হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

এই মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের কার্যকলাপ এবং প্রশাসনিক স্তরের নানা স্তরে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, যখন এমন গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়, তখন তার প্রতি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আদালত যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছে, তা একদিকে আদালতের প্রশাসনিক সঠিকতার দিক নির্দেশ করে, অন্যদিকে, জনস্বার্থের সুরক্ষাও নিশ্চিত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google