বিজেপির কোন্দলে তীব্র উত্তেজনা, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য

হলদিয়ায় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (বিএমএস) সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেই প্রকাশ্যে আসছে দলীয় কোন্দল। সমাবেশে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক…

Haldia MLA in Conflict with MP Abhijit Gangopadhyay within BJP

হলদিয়ায় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের (বিএমএস) সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেই প্রকাশ্যে আসছে দলীয় কোন্দল। সমাবেশে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। এদিকে, সেই সমাবেশে এসে তাপসী মণ্ডলকে তীর্যক মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কেউ কেউ এখান থেকে ভাঙিয়ে অন্য সংগঠন করছেন।” এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রবিবার, হলদিয়ার টাউনশিপের বন্দরের বিবি ঘোষ অডিটোরিয়ামে বিএমএস-এর একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলার দুই বিজেপি সাংসদ, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং সৌমেন্দু অধিকারী, উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমন্ত্রণ পেলেন না হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। অন্যদিকে, প্রাক্তন সাংসদ তমলুক দিব্যেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন না। আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন বিএমএস, যদিও বিজেপির নেতা কর্মীরা প্রধান সদস্য, তবুও এদিনের সমাবেশে বিধায়ক ও জেলা সভাপতি তাপসী মণ্ডলের আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

   

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিএমএসের ওপর যারা নির্ভর করেন, তাঁদেরকে বিজেএমসি-তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের দলের দু-একজন নেতার উদ্যোগে এই চেষ্টা হচ্ছে। আমি তাদের সাবধান করেছি, এরা আপনাদের দ্বারা প্রতারিত করবে। এটা পুরোপুরি প্রতারণামূলক একটি সংগঠন।”

Advertisements

অন্যদিকে, তাপসী মণ্ডল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যে কোনও শ্রমিকের অধিকার রয়েছে নিজের সংগঠন গঠনের। আর সাংসদ মহাশয় হলদিয়া সম্পর্কে কিছু জানেন না। উনি নতুন এসেছেন, আস্তে আস্তে শহরের পরিস্থিতি বুঝবেন। আমি কখনও শ্রমিক সংগঠন পরিচালনা করিনি। আমি তো শুধু রাজনীতির কথা জানি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল দলেরও একাধিক মন্তব্য সামনে এসেছে। তমলুক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ সরকার বলেছেন, “হলদিয়াতে টাকা কীভাবে লুঠ করা যায়, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। একে অপরকে পরাস্ত করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এখানে কোনও দলের ঐক্য নেই, শুধু নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে সবাই।”

এতকিছুর মধ্যে, বিজেপির অন্দরেই যখন কোন্দল বাড়ছে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যখন তারা এক দলেই রয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার বদলে একে অপরকে আক্রমণ করার ঘটনা ভবিষ্যতে দলের জন্য বিপদজনক হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল দলের নেতারা খোঁচা দিতে ছাড়েননি। তাদের মতে, বিজেপির অন্দরেই চলছে একধরনের লড়াই, যেখানে দলের কর্মীরা নিজের স্বার্থ হাসিল করতে অন্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছেন। তৃণমূল নেতারা বলেছেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে বিজেপির অন্দরেই যে প্রতারণা চলছে, তা আর ঢাকঢোল করে রাখা সম্ভব হবে না।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বিজেপির অন্দরেই আরও বড় ধরনের বিবাদ বা কোন্দল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।