
কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনার মাঝে একটা উল্লেখযোগ্য ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। (Suvendu Adhikar)বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বেশ কিছুক্ষণ ধরে প্রায় ২২০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। যে কেন্দ্রটি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এই লিড অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু নিজেই বললেন, “হিন্দু সনাতনীরা আমাকে বেছে নিয়েছে।”
একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু মুসলিম প্রধান এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকবেন। এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।ভবানীপুরের রাস্তায় রাস্তায় আজ সকাল থেকেই উত্তেজনা। গণনা কেন্দ্রের বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা উল্লাস করছেন, আর তৃণমূলের লোকজন চুপচাপ অপেক্ষায়। শুভেন্দুর লিড দেখে অনেকেই বলছেন, এটা শুধু একটা আসনের ফল নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে একটা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
আরও দেখুনঃ প্রথম ঘণ্টার ট্রেন্ডে এগিয়ে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা
দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী এলাকায় হিন্দু ভোটারদের একটা বড় অংশ যে এবার শুভেন্দুর পক্ষে ঝুঁকেছে, সেটা গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড থেকেই স্পষ্ট। শুভেন্দু নিজে যেভাবে সনাতনী হিন্দু ভোটের কথা উল্লেখ করলেন, তাতে করে রাজনীতির ভাষা আরও সরাসরি হয়ে উঠেছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লিডের পেছনে শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, আরও অনেক কারণ কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাকরি কেলেঙ্কারি, সীমান্তে অরাজকতা নিয়ে যে অসন্তোষ জমছিল, তার প্রভাব পড়েছে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারগুলোতে এই অসন্তোষ অনেক বেশি। শুভেন্দু অধিকারী যেহেতু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিরোধী শিবিরের একটা মুখ হয়ে উঠেছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর ‘লড়াকু’ ইমেজটা বেশ শক্তিশালী। ভবানীপুরের অনেক বাসিন্দা বলছেন, “এবার আর পুরনো দলকে ভরসা করতে পারছি না। পরিবর্তন চাই।”













