কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজই প্রথম প্রশাসনিক ময়দানে নামছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তবে প্রশাসনিক কাজে যোগ দেওয়ার আগে দলীয় সমীকরণ ও সৌজন্য রক্ষায় সকালেই বেরিয়ে পড়েন তিনি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক সেরে এবং দলীয় কার্যালয়ে সংবর্ধনা গ্রহণ করে আজই সরাসরি নবান্নে প্রবেশ করছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। (Suvendu Adhikari first day at Nabanna)
সকালের ব্যস্ততা ও শমীক-সাক্ষাৎ
এদিন সকাল সোয়া ৯টা নাগাদ চিনার পার্কের ফ্ল্যাট থেকে বের হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রথম গন্তব্য ছিল সল্টলেকের বিএইচ (BH) ব্লকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাসভবন। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে আলোচনা করেন দুই নেতা। বাড়ির বাইরে তখন উপচে পড়া ভিড়। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য আট থেকে আশি, ভিড় জমিয়েছিলেন অনেকেই। সেখান থেকে শমীক ভট্টাচার্যের গাড়িতে চেপেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে পৌঁছন শুভেন্দু।
দলীয় কার্যালয়ে সংবর্ধনা
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এদিনই প্রথম সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে তাঁকে ২০৭টি পদ্মের মালা, উত্তরীয় এবং মা দুর্গার মূর্তি দিয়ে বরণ করে নেন দলীয় কর্মীরা। সূত্রের খবর, রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয়ে সেখানে আলোচনা সেরেছেন তিনি।
নবান্নে ম্যারাথন বৈঠকের সূচি
দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়েই শুভেন্দুর গন্তব্য নবান্ন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকের এক ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর-
দুপুর ১২:৩০: নবান্ন সভাঘরে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক।
দুপুর ১:৩০: দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা।
বিকেল ৩:০০: রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) সঙ্গে ভার্চুয়াল বা সরাসরি বৈঠক।
বিকেল ৪:০০: রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP), পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক।
তাৎপর্য
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যেভাবে আমলা এবং পুলিশকর্তাদের তলব করেছেন শুভেন্দু, তাতে স্পষ্ট যে তিনি প্রশাসনকে প্রথম থেকেই এক কঠোর অনুশাসনে বাঁধতে চাইছেন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে ডিজিপি ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




















