Monday, May 25, 2026
Home Politics গদিতে বসেই বিহারের যুবকদের জন্য সম্রাটের নয়া চমক

গদিতে বসেই বিহারের যুবকদের জন্য সম্রাটের নয়া চমক

samrat-choudhary-youth-announcement-bihar

পটনা: বিহারের রাজনীতিতে ক্ষমতায় বসার পরই যুবসমাজকে সামনে রেখে বড় বার্তা (Samrat Choudhary)দিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ২৫টি চিনি কল (সুগার মিল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যেদিন বিহারের যুবকরা বাইরে থেকে ফিরে এসে নিজের মাটিতে কাজ শুরু করবে, সেদিনই প্রকৃত অর্থে বিহারকে উন্নত রাজ্য বলা যাবে।”

- Advertisement -

এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই কাজের সন্ধানে বিহারের বিপুল সংখ্যক যুবক ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সম্রাট চৌধুরীর এই বক্তব্য ও পরিকল্পনাকে দেখা হচ্ছে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে।

   

সম্রাট চৌধুরী জানান, চিনি কলগুলি শুধু শিল্প স্থাপন নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ উন্নয়ন মডেল। বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় আখচাষ বহু পুরনো হলেও পরিকাঠামোর অভাবে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না। নতুন সুগার মিল গড়ে উঠলে আখচাষিদের সরাসরি লাভ হবে, পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে দাবি সরকারের।

তিনি আরও বলেন, “বিহারের যুবকদের বাইরে গিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা চাই, তারা এখানেই শিল্প, কৃষি ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ুক।” এই লক্ষ্যেই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২৫টি সুগার মিল রাজ্যের বিভিন্ন আখচাষ-প্রধান জেলায় স্থাপন করা হবে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে পরিবহণ, কৃষি, ছোট ব্যবসা সব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে বিহারের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আসতে পারে।

তবে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, বিহারে এর আগেও বহু শিল্প স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। তারা জানতে চাইছে, সুগার মিলগুলির জন্য অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র কত দ্রুত মিলবে। সরকার এই সব প্রশ্নের জবাবে আশ্বাস দিয়েছে যে, সময়সীমা বেঁধে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্রাট চৌধুরীর এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। রাজ্যের যুব ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট করে দিতে চাইছেন যে নতুন সরকার কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভর বিহার গড়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ক্ষমতায় বসার পরপরই যুবদের জন্য এই বড় ঘোষণা বিহারের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং সত্যিই কি বিহারের যুবকদের ঘরে ফেরাতে পারে এই ২৫টি চিনি কল।

Follow on Google