Home World ‘এভাবে চললে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী’, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কড়া সতর্কতা ট্রাম্পের

‘এভাবে চললে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী’, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কড়া সতর্কতা ট্রাম্পের

Russia Ukraine Conflict World War 3

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলছে, তা ফের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্ট সতর্ক করে দেন, যদি দুই পক্ষের লড়াই দ্রুত বন্ধ না হয়, বিশ্বের সামনে টেনে আনা হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপর্যয়।

- Advertisement -

AI বিধিনিষেধ রুখতে নির্বাহী আদেশে সই

এদিন তিনি বিভিন্ন মার্কিন রাজ্যে আলাদা AI বিধিনিষেধ রুখতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ঠিক তার পরই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বর্তমান মাত্রা তাকে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” করছে। গত এক মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ, অধিকাংশই সেনা, নিহত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

   

ট্রাম্পের বক্তব্য, “আমি চাই এই রক্তপাত বন্ধ হোক। গত মাসে ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে… যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এভাবে সবাই যদি আগুন নিয়ে খেলা চালিয়ে যায়, পৃথিবী শেষপর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোবে। আমরা সেটা চাই না।”

মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষের প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ Russia Ukraine Conflict World War 3

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানান, রুশ এবং ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে প্রেসিডেন্ট “চরম হতাশ”। তিনি বলেন, ট্রাম্প অকারণ বৈঠক করতে রাজি নন—এখন তিনি “কথা নয়, ফলাফল” চান।

লেভিট আরও জানান, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বুধবার ট্রাম্পের সরাসরি কথা হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘এই মুহূর্তেই’ আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

ডোনেস্ক থেকে বাহিনী সরানোর জন্য চাপ? জেলেনস্কির দাবি

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের ওপর চাপ দিচ্ছে পূর্ব ইউক্রেনের ডোনেস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ থেকে সৈন্য সরিয়ে একটি “মুক্ত অর্থনৈতিক এলাকা” গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব মার্কিন পক্ষের হলেও তা রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থের দিকেই বেশি ঝুঁকে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাঁরা ২০ দফার পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সঙ্গে তিনি পরিষ্কার বলেছেন—সীমান্ত বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত যে কোনও সমঝোতা জাতীয় গণভোট ছাড়া চূড়ান্ত হবে না।

বড়দিনের আগেই শান্তিচুক্তির লক্ষ্য?

কূটনৈতিক সূত্রগুলির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন বড়দিনের আগেই একটি যুদ্ধবিরতি বা শান্তি কাঠামো গড়ে তোলার জন্য চাপ বাড়িয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে ২০ দফার বিস্তৃত একটি শান্তি-রূপরেখা, যার সঙ্গে রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ইউক্রেন পুনর্গঠনের অতিরিক্ত নথি। তবে এই নতুন খসড়ার নির্দিষ্ট বিবরণ আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।

ন্যাটো-র কড়া সতর্কতা: “ইউরোপই রাশিয়ার পরের লক্ষ্য”

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই বার্লিনে বক্তৃতা দেন ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটে। তাঁর সরাসরি সতর্কবার্তা, “ইউরোপ যদি আত্মতুষ্ট থাকে, রাশিয়া পাঁচ বছরের মধ্যেই ন্যাটোকে নিশানা করতে পারে। আমরা রাশিয়ার পরের লক্ষ্য।”

রুটে আরও বলেন, “যুদ্ধ আমাদের দরজার সামনে। রাশিয়া ইউরোপে ফের যুদ্ধ ফিরিয়ে এনেছে। এখনই প্রতিরক্ষা-উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।”

উপসংহার

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি স্পষ্টতই এক সংকটজনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের প্রকাশ্য সতর্কতা, জেলেনস্কির পাল্টা অবস্থান ও ন্যাটোর কঠিন বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে—সময়ের মধ্যে সমাধান না মিললে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর দিকে মোড় নিতে পারে।

Follow on Google