
কলকাতা: ভোট গণনার আগেই যেন জয়ের ঢাক বাজতে শুরু করেছে। (Rakesh Singh)পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিনেই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সুরে বড় দাবি করে বসলেন বন্দরের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
রাকেশ সিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গণনা আগামীকাল হলেও তাঁদের কাছে বিজয় উৎসব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে ৩ তারিখ থেকেই উদযাপন শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আর দেখা যাবে না টেলিস্কোপ দিয়েও নয়।” তাঁর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শুধু দলীয় জয়ের দাবি নয়, রাকেশ সিংয়ের বক্তব্যে শাসক দলকে কড়া আক্রমণও শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলের পতাকা, তাদের কর্মী, তাদের বাহুবলী কেউই আর থাকবে না। গত ১৫ বছরে যারা সাইকেলে চড়ত, তারা আজ স্করপিও আর ফর্চুনার গাড়িতে ঘুরছে সেই চিত্রও আর থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
আরও দেখুনঃ পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ‘বিশাল চোখ’, রহস্য উন্মোচনে নাসা
এই বক্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কেবল আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখার একটি কৌশলও হতে পারে। কারণ, ভোট গণনার আগে এই ধরনের দৃঢ় বার্তা দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত রাকেশ সিংয়ের এই মন্তব্যের কোনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ধরনের বক্তব্যকে তারা ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ হিসেবেই দেখছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বছরের নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন কেন্দ্রে অশান্তি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বেশ সংবেদনশীল। সেই আবহেই এখন সকলের নজর ভোট গণনার দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের মন্তব্য রাজনীতির অঙ্গ হলেও, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের মনেও পড়ে। একদিকে যেমন সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়, অন্যদিকে বিরোধীদের মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। স্থানীয় স্তরেও এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, যদিও সাধারণ মানুষের একাংশ অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য। তাদের মতে, “ফল বেরোলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে, এখনই কিছু বলা ঠিক নয়।”













