Home Sports News নাদাল-জকোভিচদের রেকর্ড ছাপিয়ে টেনিস দুনিয়ায় আলোচনায় এক অন্য রাফায়েল

নাদাল-জকোভিচদের রেকর্ড ছাপিয়ে টেনিস দুনিয়ায় আলোচনায় এক অন্য রাফায়েল

Rafael Jodar

স্পেনের টেনিসে আবারও যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। নাম রাফায়েল, দেশও স্পেন, আর খেলার ধরনও অনেকটা ক্লে-কোর্টের রাজাদের মতো। তাই স্বাভাবিকভাবেই টেনিসমহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ১৯ বছরের তরুণ প্রতিভা রাফায়েল হোদার  (Rafael Jodar)। কেরিয়ারের প্রথম মাদ্রিদ মাস্টার্স খেলতে নেমেই তিনি যেভাবে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছেন, তাতে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মাদ্রিদের মাটিতে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে এই তরুণ স্প্যানিয়ার্ডকে। প্রথম রাউন্ডে তিনি হারিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের জেস্পার দে জংকে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে আরও বড় চমক দেন হোদার। তিনি টুর্নামেন্টের পঞ্চম বাছাই অ্যালেক্স ডি মিনাউরকে পরাস্ত করে নজর কাড়েন। সেই জয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই তরুণকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তৃতীয় রাউন্ডে আবারও দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি বিদায় করেন ২৭তম বাছাই ব্রাজিলের জোয়াও ফোনসেকাকে। ফলে নিজের প্রথম মাদ্রিদ মাস্টার্সেই জায়গা করে নিয়েছেন শেষ ষোলোয়।

- Advertisement -

পরবর্তী রাউন্ডে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। শেষ ষোলোয় তিনি মুখোমুখি হবেন চেক প্রজাতন্ত্রের ভিত কোপ্রিভার। তবে বর্তমান ফর্মে হোদার যে কাউকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। এই টুর্নামেন্টে টানা তিনটি ম্যাচ জিতে তিনি একটি বিশেষ নজিরও গড়েছেন। কেরিয়ারের প্রথম ২৫টি ম্যাচে তিনি জিতেছেন ১৭টি। আশ্চর্যের বিষয়, এই পরিসংখ্যান টেনিস বিশ্বের কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল, নোভাক জকোভিচ, রজার ফেডেরার এবং বর্তমান তারকা কার্লোস আলকারাসের থেকেও ভালো। এত অল্প বয়সে এমন সাফল্য তাঁকে আরও বেশি করে আলোচনায় এনে দিয়েছে। মাদ্রিদ মাস্টার্সে এবারই প্রথম তিনি বিশ্বের প্রথম দশে থাকা কোনও খেলোয়াড়কে হারালেন। অ্যালেক্স ডি মিনাউরের বিরুদ্ধে সেই জয় তাঁর আত্মবিশ্বাসকে নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্টের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী মনে করা হচ্ছে, প্রতিযোগিতা শেষে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ৩৫-এর মধ্যেও উঠে আসতে পারেন তিনি।

   

জোয়াও ফোনসেকার বিরুদ্ধে জয়ের পর হোদার জানিয়েছেন, ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর মতে, ফোনসেকা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। এই ধরনের ম্যাচে ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই ফল নির্ধারণ করে দেয়। তিনি মনে করেন, সেই মুহূর্তগুলো তিনি ভালোভাবে সামলাতে পেরেছেন বলেই জয় এসেছে। একই সঙ্গে তরুণ স্প্যানিয়ার্ড আরও বলেন, বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে হলে অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে জিততেই হবে। সেই লড়াইয়ের মাধ্যমেই বোঝা যায়, একজন খেলোয়াড় আসলে কতটা এগোতে চাইছেন এবং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছেন কি না।স্পেনের টেনিসপ্রেমীরা তাই এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন। নাদালের পর আবার কি নতুন ‘রাফা’ উঠে আসছে? উত্তর এখনও সময়ের হাতে, তবে রাফায়েল হোদার যে নিজের আগমনের বার্তা জোরালোভাবে দিয়ে ফেলেছেন, তা বলাই যায়।

Follow on Google