Monday, May 25, 2026
Home Politics ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল বিজেপি

ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল বিজেপি

messi-kolkata-scandal-aroop-biswas-resignation-demand

কলকাতা: লিও মেসিকে দেখতে এসে আশা ভঙ্গ হল হাজার হাজার দর্শকদের (Messi Kolkata scandal)। কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমী ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।এই ঘটনা একদিকে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির মতো একজন আইকনকে অপমান করেছে, অন্যদিকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের আবেগকে রীতিমতো পদদলিত করেছে।

- Advertisement -

যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু বিশৃঙ্খলা নয়, অনেকের মতে এটি একটি পরিকল্পিত ব্যর্থতা ও বড়সড় কেলেঙ্কারি, যা চিরদিনের জন্য কলকাতার ভাবমূর্তিতে কালো দাগ হয়ে থেকে যাবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

   

৩০০ বছরে একটি ঘূর্ণন! বৃহস্পতির চেয়ে ছয় গুণ বড় গ্রহ অবাধে বিচরণ করেছে মহাকাশে

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কলকাতায় লিওনেল মেসিকে আনা হয়েছিল—এমন অভিযোগ করেছে বিজেপি। অভিযোগকারীদের দাবি, তার আগেই শহরে বসানো হয় মেসির একটি বিতর্কিত ৭০ ফুট মূর্তি, যা নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। এরপর হাজার হাজার মানুষকে প্রলুব্ধ করা হয় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দামের টিকিট বিক্রি করে। সাধারণ মানুষ, অনেক ক্ষেত্রেই মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবার, সঞ্চয় ভেঙে বা ধার করে এসেছিলেন শুধুমাত্র এক ঝলক মেসিকে দেখার আশায়।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। চরম অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার অভাবে মেসিকে কার্যত অনুষ্ঠানেই থাকতে দেওয়া হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে দর্শকদের সামনে কোনও কর্মসূচিই কার্যত হয়নি। হতাশা, ক্ষোভ আর প্রতারণার অনুভূতিতে ফেটে পড়ে জনতা। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে নেমে পড়েন, ভাঙচুর চলে গ্যালারিতে, ছিঁড়ে ফেলা হয় পোস্টার, চেয়ার। যদিও সৌভাগ্যবশত বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরেই রাজ্যের ক্রীড়া দফতর ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পুরো অনুষ্ঠানটাই ছিল রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার। মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, অথচ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ছিল চরম গাফিলতি।

সবচেয়ে তীব্র দাবি উঠেছে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ নিয়ে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়কে এনে যদি রাজ্য সরকার ন্যূনতম নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে কোনওভাবেই দায় এড়ানো যায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যর্থ অনুষ্ঠান নয়—এটি প্রশাসনিক অযোগ্যতা, রাজনৈতিক আত্মপ্রচার এবং জনসাধারণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিচ্ছবি। ফুটবলপ্রেমী কলকাতা যে গর্ব নিয়ে বিশ্বকে নিজের পরিচয় দেয়, এই ঘটনা সেই গর্বে গভীর আঘাত হেনেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—এই ঘটনার দায় কে নেবে? তদন্ত হবে তো? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব চাপা পড়ে যাবে? কিন্তু যাঁরা সেদিন যুবভারতীতে ছিলেন, তাঁদের কাছে এই অপমান, এই প্রতারণা কোনও দিন ভুলবার নয়। কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এই লজ্জাজনক অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবেই লেখা হয়ে গেল।

Follow on Google