কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডেলে সাম্প্রতিক এক পরিবর্তনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করেছে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনা এমন এক সময় প্রকাশ্যে এসেছে, যখন রাজনৈতিক মহল ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনায় ব্যস্ত।
ঘটনাচক্রে, একই দিনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বিশাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিকভাবে এই দিনটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রশাসনিক ও ডিজিটাল পরিবর্তনের ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডলে বর্তমানে যেসব অ্যাকাউন্ট ‘ফলো’ করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম। এই তালিকা পরিবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হিসেবে দেখছে, যদিও পুলিশের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক স্তরেও পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর এক্স হ্যান্ডলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ‘রাজ্যের বিরোধী দলনেতা’ লেখা থাকলেও, ততক্ষণে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন। ফলে ডিজিটাল তথ্য আপডেটের বিলম্ব নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। একই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স হ্যান্ডলে এখনও ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অথচ বৃহস্পতিবার রাতেই রাজ্যপাল আর.এন. রবি আগের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার এক দিন পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে থেকে নিরাপত্তা বহর কমিয়ে দেওয়া হয়। বহু বছর ধরে সেখানে যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে। রাস্তার গার্ডরেল, ধাতব ট্র্যাক এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বসানো কাঠামোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
একই ধরনের নিরাপত্তা পরিবর্তন দেখা গেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাসভবনেও। সেখানে নিরাপত্তার স্তর কমানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।




















