
নির্বাচনের গণনা যত এগোচ্ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর সূত্রে জানা গেছে, ১৩ রাউন্ড গণনা শেষে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৩৪৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই লিড একতরফা নয় ক্রমশ ব্যবধান কমিয়ে লড়াইকে টানটান করে তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিড কিছুটা বেশি থাকলেও, গণনার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমাতে শুরু করেন। প্রতিটি রাউন্ডে ভোটের ওঠানামা এই লড়াইকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
এই কেন্দ্রটি রাজ্যের অন্যতম হাই-প্রোফাইল আসন হিসেবে পরিচিত। একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী তথা বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দুই শক্তিশালী প্রার্থীর লড়াই স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর কেড়েছে। নির্বাচনের দিন থেকেই এই কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫৩৪৯ ভোটের লিড থাকলেও, তা খুব বেশি নিরাপদ ব্যবধান নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এখনও একাধিক রাউন্ডের গণনা বাকি রয়েছে এবং প্রতিটি রাউন্ডে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোট গণনার পার্থক্য ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর ব্যবধান কমানোর এই প্রবণতা বিজেপি শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাঁদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকলে ফলাফল ঘুরেও যেতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস শিবির অবশ্য আত্মবিশ্বাসী, তারা মনে করছে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জয়ী হবেন। গণনাকেন্দ্রের বাইরে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় এবং উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কোথাও আনন্দ, কোথাও আবার উদ্বেগ এই দুই মিশ্র আবেগে ভরপুর পুরো পরিবেশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনেই চলছে। প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফল সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের অনুমান বা গুজব এড়িয়ে চলার আবেদনও জানানো হয়েছে।







