
বিহার: কংগ্রেসের নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ (Giriraj Singh) সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, “রাহুল গান্ধী নেতৃত্ব দিক না প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, এটি তাদের পরিবারের বিষয়। তবে মনে হচ্ছে কংগ্রেসের লোকজনও দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত, আর তাই রাহুল গান্ধী এই বিষয় নিয়ে নীরব থাকছেন।” এই মন্তব্য কংগ্রেসের ভেতরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দলের নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনাকে আরও তীব্র করেছে।
গিরিরাজ সিংহের এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসে নেতৃত্ব ও দলের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা যাচ্ছে। দলের কিছু অংশ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখে, আবার অন্য অংশ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সক্রিয় ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে। এই ভিন্নমতই দলকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চলতি সময়ে একাধিক নির্বাচনে দলের পরাজয় এবং রাজনৈতিক কৌশলের ওপর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভেতরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতি আস্থা বাড়ছে। প্রিয়াঙ্কা, যিনি পূর্বে নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রন্টলাইন রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন এবং দলের রাজনীতিতে তাঁর দক্ষতা অনভিজ্ঞদের নজর এড়ায়নি।
গিরিরাজ সিংহের মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, রাজনৈতিক মহলে এবং বিরোধী দল বিজেপির দৃষ্টিকোণে কংগ্রেসে নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বিদ্যমান। বিজেপির তরফে বলা হচ্ছে, দলের নেতাদের মধ্যে বিরোধ ও বিভাজন স্পষ্ট হওয়ায় কংগ্রেসের কার্যকারিতা ও নির্বাচনী ক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি কংগ্রেসের জন্য নির্বাচনী ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
গিরিরাজ সিংহের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের মধ্যে নতুন জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। দলের ভেতরে এই বিভাজন কিভাবে সমাধান হবে এবং রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে নেতৃত্বের সম্পর্ক কেমন হবে, তা আগামী দিনগুলোতে দলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।








