
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করলেন (Himanta)এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিকে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে হিমন্ত বলেন, “ওয়াইসি যদি আমাকে ২ টাকা দিতে চান, তাহলে সেই ২ টাকাও আমি অসমের উন্নয়নে লাগিয়ে দেব। কিন্তু তার জন্য তাঁকে অসমে আসতে হবে।”এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে একটা রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের ধারাবাহিকতা।
গত কয়েকদিন আগে তেলঙ্গানার নিজামাবাদে এক জনসভায় ওয়াইসি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। হিমন্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ওয়াইসি বলেন, “মিয়া মুসলিম অটোচালক হলে ভাড়া কম দাও ৫ টাকার ভাড়া হলে ৪ টাকা দাও এমন কথা বলেন হিমন্ত। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, আমি তোমাকে এই ২ টাকা ভিক্ষা দিচ্ছি, নেবে? জানি তুমি ২ টাকার ভিখারি।
চলছে মাধ্যমিক! রেজাল্ট কবে? জানিয়ে দিল পর্ষদ
অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেব?” ওয়াইসি আরও বলেন, এমন মন্তব্য সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, বিভেদ সৃষ্টি করে এবং দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে। তিনি অভিযোগ করেন, হিমন্ত সরকার ভয় ও পক্ষপাত দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছেন।এর জবাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরাসরি পালটা আক্রমণ করলেন। তিনি বলেন, ওয়াইসির ২ টাকা যদি সত্যিই দিতে চান, তাহলে তিনি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিন্তু শর্ত একটাই, ওয়াইসিকে অসমে এসে সেই টাকা দিতে হবে।
আর সেই টাকা সরাসরি অসমের উন্নয়ন কাজে লাগানো হবে। হিমন্তের বার্তা স্পষ্ট রাজনীতির ছোটখাটো কথা-কাটাকাটির পরিবর্তে তিনি রাজ্যের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অসমবাসী উন্নয়ন চান, বিতর্ক নয়।এই ঘটনা আসলে দুই নেতার দীর্ঘদিনের বিরোধের একটা অংশ। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (বিশেষ করে মিয়া মুসলিম বলে পরিচিত বাঙালি-ভাষী মুসলিমদের) নিয়ে অসমে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ২০৪১ সাল নাগাদ অসম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হয়ে যেতে পারে। ওয়াইসি এসব দাবিকে মিথ্যা বলে খারিজ করেন এবং হিমন্তকে মুসলিম-বিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন। এই বিতর্কে ওয়াইসির ‘২ টাকা ভিক্ষা’ মন্তব্য ছিল একটা ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণ, যা হিমন্তকে ‘ভিখারি’ বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা।কিন্তু হিমন্ত সেই আক্রমণকে উল্টে দিয়ে উন্নয়নের প্রসঙ্গে নিয়ে এলেন।
তাঁর কথায়, “যত ছোটই হোক, অর্থ যদি অসমের কাজে লাগে, তাহলে স্বাগত। কিন্তু ওয়াইসিকে অসমে এসে দেখতে হবে কীভাবে রাজ্য এগোচ্ছে রাস্তা, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুবকদের জন্য স্কিম।” অসম সরকারের অধীনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলছে যেমন অটোনির্ভর অসম স্কিমে যুবকদের ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া, রেলওয়ে স্টেশন উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ। হিমন্তের দাবি, অসম এখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগোচ্ছে, পুরনো উপেক্ষার দিন শেষ।
এই বাকযুদ্ধে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, হিমন্ত ওয়াইসির ব্যক্তিগত আক্রমণকে রাজ্যের উন্নয়নের প্রচারে পরিণত করেছেন। একদিকে ওয়াইসি সংখ্যালঘু অধিকার ও সাংবিধানিক সমতার কথা তুলছেন, অন্যদিকে হিমন্ত বলছেন রাজনীতি নয়, উন্নয়নই অসমের চাহিদা। অসমবাসীদের কাছে বার্তা স্পষ্ট: বিজেপি সরকার উন্নয়নের পক্ষে, বিভেদের নয়।












