Home North East India বাংলাদেশ আবহে উত্তেজনা উস্কে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ আবহে উত্তেজনা উস্কে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

himanta-biswa-sarma-bangladesh-chickens-neck-warning

গুয়াহাটি: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার মধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “যারা বাংলাদেশে বসে চিকেনস নেক করিডর কেটে উত্তর-পূর্বকে বিচ্ছিন্ন করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের বলে রাখি এটা কখনো হবে না।” পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, অসম থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিরন্তর চলবে।

- Advertisement -

“কোনো ভয় নেই, কোনো থামা নেই, কোনো আপস নেই।” এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের কিছু নেতা ও গোষ্ঠীর বিতর্কিত মন্তব্যে। সেখানে কেউ কেউ উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন।

   

হিন্দুত্ববাদী মিছিলে পুলিশি হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী

বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ যা উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা সরু ভূখণ্ড নিয়ে হুমকির সুর শোনা গেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর জবাবে বলেন, “যদি বাংলাদেশ আমাদের চিকেনস নেক নিয়ে বেশি কথা বলে, তাহলে আমি নিজেই সেই চিকেনস নেক বদলে দেব।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের নিজেরও দুটি এমন সরু করিডর রয়েছে, যা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

একটি চট্টগ্রাম বন্দরকে যুক্ত করা মেঘালয় সংলগ্ন অংশ, অন্যটি উত্তর বাংলাদেশের ৮০ কিলোমিটারের স্ট্রিপ। হিমন্তের এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক সতর্কতা নয়, আসামের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, অসমের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। স্বাধীনতার সময় এই হার ছিল মাত্র ১০-১৫ শতাংশ।

“অসম এখন একটা পাউডার কেগের উপর দাঁড়িয়ে,” বলেন তিনি। ২০২৭-এর আদমশুমারিতে হিন্দু-মুসলিম জনসংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে, যা রাজ্যের শাসনকে জটিল করে তুলবে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ, যা কংগ্রেস আমলে উপেক্ষিত ছিল বলে অভিযোগ হিমন্তের। অনুপ্রবেশকারীদের উচ্ছেদ নিয়ে হিমন্তের অবস্থান অটল।

তিনি বলেন, “পুশব্যাক নীতি চলবে। আমরা তাদের গ্রেফতার করে জেলে রাখব না, সরাসরি ফেরত পাঠাব।” সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শত শত অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া আসাম আন্দোলনের শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। হিমন্ত বলেন, “যখন ওষুধ কাজ করছে না, তখন সার্জারি দরকার।” চিকেনস নেকের সমস্যা সমাধানের জন্য ২০-২২ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের কথাও তুলেছেন তিনি।

Follow on Google