
ISL: সময় বদলেছে, বদলেছে ইস্টবেঙ্গলের বাস্তবতাও। এক সময় যারা শুধু অতীত গৌরব নিয়েই বেঁচে ছিল, সেই লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব এখন সত্যিই শিরোপার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ তাই শুধুই আর একটি লিগ ম্যাচ নয়, বরং ইস্টবেঙ্গলের মরশুম নির্ধারণকারী লড়াই।
এই মুহূর্তে লিগ টেবলে ছয় নম্বরে রয়েছে লাল-হলুদ। তবে আজ জয় পেলে ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি উঠে যাবে প্রথম চারে। তখন শীর্ষে থাকা মোহনবাগানের সঙ্গে ব্যবধান কমে দাঁড়াবে মাত্র দুই পয়েন্টে। অর্থাৎ সামনে কলকাতা ডার্বি থাকায় সমীকরণ আরও জমে উঠেছে। ১৭ মে ডার্বিতে যদি মোহনবাগানকে হারানো যায়, তবে শীর্ষে ওঠার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজকের ম্যাচে তিন পয়েন্ট জরুরি। কোচ অস্কার ব্রুজ়ো অবশ্য এখনই বড় ছবি দেখতে রাজি নন। তাঁর কাছে একমাত্র লক্ষ্য পরের ম্যাচ। সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত শুধু ওডিশা ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন। তবে এটাও মেনে নিয়েছেন, এই ম্যাচ জিততে পারলে টেবলে অবস্থান অনেকটাই মজবুত হবে। দলের প্রস্তুতিও যথেষ্ট ইতিবাচক। সোমবার বিকেলে গোয়ায় অনুশীলনে নেমেছিল গোটা দল। সামান্য চোটের সমস্যা থাকা রশিদ ও আনোয়ারকে ঘিরে কিছুটা সংশয় ছিল, কিন্তু দু’জনকেই পুরো দমে অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। ফলে তাঁদের মাঠে নামার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। যদিও ইস্টবেঙ্গল পাচ্ছে না দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মিগুয়েল ও মহেশকে। মিগুয়েল সাসপেনশনের কারণে বাইরে, আর মহেশ এখনও চোট সারিয়ে ফিরতে পারেননি।
তবে এই অনুপস্থিতি নিয়ে খুব বেশি চিন্তায় নেই কোচিং স্টাফ। কারণ চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের শক্তি ছিল দলগত ফুটবল। ৮ ম্যাচে ২২ গোল করেছে দল, আর সেই গোল এসেছে ৯ জন আলাদা ফুটবলারের পা থেকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট এক জনের উপর নির্ভরশীল নয় দল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউসেফ এজেজারি, যিনি ইতিমধ্যেই ৭ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে ওডিশা এফসির অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে ১২ নম্বরে। অবনমনের আশঙ্কাও তাড়া করছে দলটিকে। নতুন কোচ টিজে পুরুষোত্তম দায়িত্ব নিলেও এখনও দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে পারেননি। তাই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে অন্তত এক পয়েন্ট তুলে নেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিসংখ্যান অবশ্য ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে নয়। দুই দলের ১৩ বারের সাক্ষাতে লাল-হলুদের জয় মাত্র দু’বার, ওডিশা জিতেছে আটটি ম্যাচ। কিন্তু অতীতের হিসাব মাঠে সব সময় কাজ করে না। বর্তমান ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণভাগের ধার বিচার করলে এই ম্যাচে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গলই। আজ তাই লাল-হলুদ সমর্থকদের চোখ শুধু তিন পয়েন্টে। কারণ এই জয় এলে শুধু টেবলে উন্নতি নয়, বহুদিন পর সত্যিকারের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের নাম জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে ইস্টবেঙ্গল।













