Monday, May 25, 2026
Home Bharat ‘রক্তাক্ত হয়ে ফিরেছি’, দিল্লি বিমানবন্দরে পাইলটের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ! জবাব AI-এর

‘রক্তাক্ত হয়ে ফিরেছি’, দিল্লি বিমানবন্দরে পাইলটের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ! জবাব AI-এর

Delhi Airport passenger assault

দিল্লি বিমানবন্দরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বোর্ডিং লাইনে ‘কিউ কাটিং’-এর প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এক পাইলটের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী যাত্রী অঙ্কিত দেওয়ান। ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি জানান, মারধরের জেরে তাঁর মুখে রক্তাক্ত আঘাত লাগে। তাঁর সাত বছরের মেয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি।

- Advertisement -

অঙ্কিত দেওয়ান জানিয়েছেন, তিনি স্পাইসজেটের যাত্রী ছিলেন। চার মাসের শিশুকন্যা ও সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনালে নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। স্ট্রোলারে শিশু থাকায় বিমানবন্দরের কর্মীরা তাঁকে ‘স্টাফ সিকিউরিটি চেক-ইন’ লাইনে যেতে নির্দেশ দেন বলেও দাবি তাঁর।

   

কিউ কাটের প্রতিবাদ

অভিযোগ অনুযায়ী, সেই লাইনে দাঁড়িয়েই তিনি দেখতে পান, কয়েকজন কর্মী তাঁর আগে কিউ কাট করছেন। তিনি প্রতিবাদ করতেই এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ওই পাইলট তাঁকে ‘আনপড়’ (অশিক্ষিত) বলে কটূক্তি করেন এবং বোর্ডে লেখা নির্দেশ পড়তে পারেন না বলেও ব্যঙ্গ করেন। এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

দেওয়ানের দাবি, উত্তেজনা সামলাতে না পেরে ওই পাইলট শারীরিকভাবে তাঁর উপর চড়াও হন। এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) পোস্ট করা ছবিতে নিজের জামায় ও মুখে লেগে থাকা রক্ত দেখিয়ে তিনি লিখেছেন, ছবিতে দেখা রক্ত তাঁরই। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি সামান্য বিবাদে সংযম হারান, তাঁকে কীভাবে শত শত যাত্রীর জীবন নিয়ে আকাশে উড়তে দেওয়া যায়?

নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন Delhi Airport passenger assault

এই ঘটনার সূত্র ধরে দিল্লি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দেওয়ান। তাঁর অভিযোগ, শিশু সহ যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশপথের সঙ্গে কর্মীদের প্রবেশপথ এক করে দেওয়ায় সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগকারী আরও জানান, তাঁকে নাকি চাপ দিয়ে একটি চিঠি লিখতে বাধ্য করা হয়, যাতে বলা হয় তিনি আর বিষয়টি এগোবেন না। দেওয়ানের কথায়, ওই চিঠি না লিখলে তাঁকে ফ্লাইট ধরতে দেওয়া হতো না এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ছুটির বুকিং বাতিল হয়ে যেত। দিল্লি পুলিশের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল ট্যাগ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ফিরে এসে অভিযোগ দায়ের করলে কি সিসিটিভি ফুটেজ উধাও হয়ে যাবে?

ঘটনার নিন্দা

এদিকে ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা এই ধরনের আচরণকে unequivocally নিন্দা করে। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। তাদের দাবি, অভিযুক্ত পাইলট ওই সময় অন্য একটি এয়ারলাইনের যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছিলেন।

দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, যাত্রীর অভিজ্ঞতায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

Follow on Google