Monday, May 25, 2026
Home Kolkata City আয়ুষ মন্ত্রকের কর্মসূচিতে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের বার্তা কাটোয়ায়

আয়ুষ মন্ত্রকের কর্মসূচিতে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের বার্তা কাটোয়ায়

ayush-pharmacovigilance-programme-kolkata-amra-npvcc

কলকাতা: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ফার্মাকোভিজিল্যান্স (Ayush pharmacovigilance)সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়াতে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ একদিনের একাডেমিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি। আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার্স আরবিএসকে অ্যাসোসিয়েশন (AMRA), পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোগে এবং আয়ুষ মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল ফার্মাকোভিজিল্যান্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (NPvCC), নয়াদিল্লির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

- Advertisement -

   

এই কর্মসূচিতে কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি (NIH) ইন্টারমিডিয়েট ফার্মাকোভিজিল্যান্স সেন্টার (IPvC) হিসেবে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি, সেন্ট্রাল আয়ুর্বেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CARI), কলকাতা পেরিফেরাল ফার্মাকোভিজিল্যান্স সেন্টার (PPvC) হিসেবে যুক্ত ছিল। আয়ুষ সেক্টরের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ফার্মাকোভিজিল্যান্স এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

আরও দেখুন: SIR মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণে রাজীবের কৃতকর্মের ফল ভুগছেন পীযুষ!

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে। অতিথিদের অভ্যর্থনা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং বন্দনা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে একাডেমিক আলোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী স্বাগত ভাষণে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও দায়িত্বশীল চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথির ডা. রামকৃষ্ণ ঘোষ, পূর্ব বর্ধমানের এডিএমও আয়ুষ ডা. তারাপদ ঘোষ এবং সেন্ট্রাল আয়ুর্বেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. তুষার কান্তি মণ্ডল, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা এবং নৈতিক আচরণের ওপর জোর দেন। উদ্বোধনী পর্বের শেষে AMRA-র সভাপতির ধন্যবাদজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি হয়।

সংক্ষিপ্ত চা-বিরতির পর শুরু হয় একাধিক কারিগরি অধিবেশন। এখানে ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডা. তুষার কান্তি মণ্ডল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রিপোর্টিং এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। এরপর ডা. বাপ্পাদিত্য বিশ্বাস স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং হোমিওপ্যাথির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। ডা. স্বপন পাল স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর নৈতিক, আইনি ও জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরেন।

শেষ কারিগরি অধিবেশনে ডা. রামকৃষ্ণ ঘোষ হোমিওপ্যাথির সীমাবদ্ধতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্তিসঙ্গত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সমাপ্তি হয় সমাপনী পর্বের মাধ্যমে। সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের পর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শংসাপত্র বিতরণ করা হয়। শেষ মুহূর্তে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি ঘটে।

আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ, অর্থবহ একাডেমিক আলোচনা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতেও ফার্মাকোভিজিল্যান্স সম্পর্কে সচেতনতা, নৈতিক চিকিৎসা চর্চা এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে AMRA।

Follow on Google