রাম মন্দিরের জমি বিভ্রাট নিয়ে বিস্ফোরক সলিসিটর জেনারেল

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিরোধ মামলা নিয়ে আজ আবারও চাঞ্চল্য। দেশের আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতার বিস্ফোরক অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টে এই ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
ayodhya-ram-mandir-land-dispute-tushar-mehta-sensational-claim-supreme-court

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিরোধ মামলা নিয়ে আজ আবারও চাঞ্চল্য। দেশের আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতার বিস্ফোরক অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি বিলম্বিত করার জন্য ‘অসংখ্য চেষ্টা’ করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। এমনকি, দুই বিশিষ্ট আইনজীবী শুনানি বিলম্বিত করতে ব্যর্থ হয়ে আদালত থেকে হেঁটে বেরিয়ে যান।

এই ঘটনা শুধু আইনি বৃত্তে নয়, সারা দেশে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি নেতা তরুণ চুগ বলেছেন বিরোধী দলগুলো রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান পর্যন্ত বর্জন করেছিল, যা জাতি কখনো ভুলবে না। এই অভিযোগগুলো একটি নতুন বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে উত্থাপিত হয়েছে, যা মামলার অজানা অধ্যায়গুলো তুলে ধরেছে।তুশার মেহতা, ভারতের সোলিসিটর জেনারেল হিসেবে সরকারের প্রধান আইনি উপদেষ্টা।

   

শুক্রবার নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে একটি বই প্রকাশনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। বইটির নাম ‘কেস ফর রাম দ্য আনটোল্ড ইনসাইডার্স স্টোরি’, যা সিনিয়র অ্যাডভোকেট অনিরুদ্ধ শর্মা এবং শ্রীধর পোতারাজু রচিত। এই বইটি রাম জন্মভূমি মামলার অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করে, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। মেহতা বলেন, “শুনানি বিলম্বিত করার চেষ্টা হয়েছে, কখনো গোপনে, কখনো খোলাখুলি।

একবার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে দুই বিশিষ্ট আইনজীবী আদালত থেকে হেঁটে বেরিয়ে যান, যা আমরা শুধু সংসদে দেখেছি। এটা আমার মনে একটা তিক্ত স্মৃতি রেখে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে দুটি দলের আইনজীবী ছিলেন একদল আদালতে যুক্তি দিত, অন্যদল মামলা টেনে নিত।এই মামলার পটভূমি খুবই জটিল এবং সংবেদনশীল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর থেকে এই জমি নিয়ে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

২০১০ সালে আল্লাহাবাদ হাইকোর্ট জমিটিকে তিন ভাগে ভাগ করে দেন রাম লল্লা, নির্মোহি অখাড়া এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের জন্য। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল হয়। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর পাঁচ বিচারপতির খণ্ডসুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ, তৎকালীন চিফ জাস্টিস রঞ্জন গোগোয়ীর নেতৃত্বে, ঐতিহাসিক রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য হস্তান্তর করা হবে এবং মুসলিম পক্ষকে পাঁচ একর বিকল্প জমি দেওয়া হবে।

এই রায় দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।কিন্তু মামলার শুনানির সময় যে নাটকীয়তা ঘটেছিল, তা আজও স্মৃতিচারণে রয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুনানি শুরুর সময় কপিল সিব্বাল, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করার আবেদন করেন। তুশার মেহতা তখন অ্যাডিশনাল সোলিসিটর জেনারেল ছিলেন এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে যুক্তি দেন।

তিনি বলেন, এটা একটা সাধারণ টাইটেল ডিসপিউট নয়, যা শতাব্দী প্রাচীন। শুনানি তিন মাসের মধ্যে শেষ করা উচিত। হরিশ সালভেও মেহতার পক্ষে কথা বলেন এবং সিব্বালের আবেদনকে ‘আদালতের অপমান’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর রাজীব ধবন, আরেকজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট, আপত্তি তুললে আদালতের মধ্যে তুমুল তর্ক হয়। শেষমেশ দুই আইনজীবী শুনানি ছেড়ে চলে যান। মেহতা বলেন, এই ঘটনায় বিচারপতিরা ‘জুডিশিয়াল স্টেটসম্যানশিপ’ দেখিয়ে মামলাকে সঠিক পথে রেখেছেন।

এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ইনচার্জ তারুণ চুগ টাইমস নাউ-এর সাংবাদিক প্রগ্যা কৌশিকের সঙ্গে কথা বলেন। চুগ বলেন, “দেশ কখনো ভুলবে না যে বিরোধী দলগুলো রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান পর্যন্ত বর্জন করেছে। এটা তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশের প্রকাশ।” ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অংশ নেন এবং দেশজুড়ে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো এতে অংশ নিতে অস্বীকার করে, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। চুগের এই মন্তব্য মেহতার অভিযোগকে রাজনৈতিক রঙ দিয়েছে।বিরোধী ক্যাম্প থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেতা ড. উদিত রাজ বলেছেন, “বিজেপি সবসময় অতীত খুঁড়ে বের করে রাজনীতি করে।

মামলার শুনানি বিলম্বিত করার অভিযোগটা পুরনো, কিন্তু এখন এটা কেন তুলে ধরা হচ্ছে?” অ্যাডভোকেট পি.ভি. যোগেশ্বরন, যিনি মামলায় অংশ নিয়েছিলেন, বলেন, “সুন্নি ওয়াকফের আইনজীবীরা দুই দলে বিভক্ত ছিলেন, একদল আদালতে যুক্তি দিত, অন্যরা টেনে নিত। কিন্তু এটা আইনি কৌশল, ষড়যন্ত্র নয়।” এই অভিযোগগুলো মামলার ৬ বছর পর উঠায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন — এটা কি নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক লাভের জন্য?

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google