Monday, May 25, 2026
Home Bharat মঙ্গলবার ফের ৩০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল, এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে তলব কেন্দ্রের

মঙ্গলবার ফের ৩০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল, এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে তলব কেন্দ্রের

Bomb Threat Forces IndiGo Flight With 238 On Board to Make Emergency Landing
Bomb Threat Forces IndiGo Flight With 238 On Board to Make Emergency Landing

দেশের বিমান পরিষেবা মঙ্গলবারও স্বাভাবিক হতে পারেনি। ইন্ডিগো–র (Indigo Air) কার্যক্রমে টানা বিঘ্ন ঘটে চলেছে, যার জেরে সারা দেশে মঙ্গলবারও ৩০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও এয়ারলাইন সংস্থার দাবি, গত কয়েক দিনের বিশৃঙ্খলার পর তাদের নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে।

- Advertisement -

কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমানপরিবহণ মন্ত্রী কে রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, ইন্ডিগোর এই কার্যত ‘মেল্টডাউন’-এর জন্য তাদের শীতকালীন শিডিউল ৫ শতাংশ কমানো হবে। এই কমানো স্লটগুলি অন্য এয়ারলাইন সংস্থার মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে, যাতে সামগ্রিক বিমান পরিষেবা সচল রাখা যায় এবং যাত্রীদের অসুবিধা কমে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে, বিমান পরিষেবার এমন বিশাল ব্যাহতিকে কেন্দ্র কোনওভাবেই হালকাভাবে দেখছে না।

   

এদিকে আজই দেশের সমস্ত এয়ারলাইন অপারেটরদের সঙ্গে একটি রিভিউ মিটিং ডেকেছে বেসামরিক বিমানপরিবহণ মন্ত্রক। লক্ষ্য একটাই—ভবিষ্যতে এমন সংকট যাতে কোনওভাবেই পুনরাবৃত্তি না হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর স্পষ্ট হয়েছে যে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের মতো পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেই কারণেই এই বৈঠকে থাকবে অপারেশনাল সক্ষমতা, কর্মীসংকট, গ্রাউন্ড স্টাফ ম্যানেজমেন্ট ও যাত্রী পরিষেবা—সব বিষয়ের বিশেষ আলোচনা।

যাত্রীদের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই বড় মাপের রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতদিনে মোট ৮২৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বাতিল বা বিলম্বিত ফ্লাইটের যাত্রীদের। এই বিশাল রিফান্ডের অঙ্ক পরিস্থিতির গুরুতর রূপই স্পষ্ট করছে। পাশাপাশি ইন্ডিগোর দাবি, সোমবার তারা ১,৮০০-রও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং এ দিনের অন-টাইম পারফরম্যান্স বা ওটিপি ছিল ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সংস্থা চেষ্টা চালাচ্ছে জোরদার।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। মঙ্গলবার যাত্রীদের বেশ বড় অংশকেই বাতিল বা বিলম্বিত ফ্লাইটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিমানবন্দরে লম্বা সারি, চেক-ইন কাউন্টারের জট, শেষ মুহূর্তে ঘোষণা—সব মিলিয়ে যাত্রীদের অসুবিধা নিরবচ্ছিন্নই থেকেছে। বিশেষত ব্যবসায়িক যাত্রা, চিকিৎসাজনিত ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক কানেক্টিং ফ্লাইট থাকা যাত্রীদের সমস্যাই বেশি দেখা গেছে।

ইন্ডিগোর এই বড় ধাক্কার কারণ হিসেবে গত কয়েক দিনে কর্মীদের বড় অংশের অনুপস্থিতি ও শিডিউলিং সমস্যাকে উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে এ ধরনের কর্মীসংকট যে বিশাল বিপর্যয়ের জন্ম দিতে পারে, তা স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রের রিভিউ মিটিং–এ এই বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা। কারণ কর্মীসংখ্যা, শিফট সিস্টেম, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সাপোর্টের মতো বিষয়গুলি ভবিষ্যতে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

Follow on Google