গুয়াহাটি: অসম পুলিশের বড় অভিযান। (Guwahati)এই অভিযানেই উঠে এসেছে জাল নোটের বিপুল সাম্রাজ্যের এক অজানা কাহিনী। প্রায় ১০০ কোটি টাকার জাল নোট তৈরি ও চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে একাধিক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, এটি শুধু জাল নোটের চক্র নয়, দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার এক বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ হতে পারে।
গ্রেফতার হওয়া মূল চক্রী সাহিল ওরফে ইসমাইল আলি ও তার স্ত্রী সুমি এই চক্রের মূল পান্ডা বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে আফসানুর রহমান ও চিন্ময় কলিতাও জড়িত।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষীমপুরের বাঙালমারা এলাকা থেকে জাল নোট তৈরি করে গুয়াহাটির আইএসবিটি-সহ বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্ত সাহিল ওরফে ইসমাইল আলি জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ বিরাট নাশকতার ছক! অসমে অভিযান চালিয়ে পুলিশের জালে ২ উলফা
তিনি স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক চালিয়ে কোটি কোটি টাকার জাল নোট চালানো হচ্ছিল। পুলিশ বড় অঙ্কের জাল নোট, ছাপার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। আরও কয়েকজনকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।এই চক্রের সঙ্গে দেশবিরোধী উপাদান, কিছু মুসলিম গ্যাং, পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশি সংযোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, জাল নোট শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার একটি কৌশলও হতে পারে। গুয়াহাটি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই চক্রের পেছনে বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকলে তাও বের করা হবে।”এই ঘটনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উদ্বেগ বেড়েছে।
আরও দেখুনঃ বঙ্গে দাম আকাশ ছোঁয়া! মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চোরাচালান হচ্ছে বস্তা বস্তা রসুন
জাল নোটের কারণে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি তো হয়ই, সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বাসের সংকট দেখা দেয়। পুলিশের অভিযানে যে পরিমাণ জাল নোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তা দেখে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এর চেয়েও বড় পরিমাণ হয়তো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের চক্র দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। লক্ষীমপুর থেকে গুয়াহাটি হয়ে অন্য রাজ্যে পাচার হতো জাল নোট। চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। সাহিল ও তার স্ত্রী সুমি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তদন্তে আরও অনেকের নাম উঠে আসতে পারে।


