ঝাঁসি: মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার মাখনি গ্রামে এক অস্বস্তিকর (Waqf Land)বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রামের বাসিন্দারা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ওয়াকফ বোর্ড গ্রামের বেশ কয়েক একর জমি, বাড়িঘর, চাষের জমি এবং একটি প্রাচীন শিবলিঙ্গসহ দেবস্থানকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করেছে।
বোর্ডের অভিযোগ, এই জমি নাকি একটি কবরস্থানের অংশ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।গ্রামবাসীদের অভিযোগ অনুসারে, ওয়াকফ বোর্ড কয়েক মাস আগে সাতটি পরিবারকে নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে জমি খালি করতে বলেছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তিন একরের মতো জমি ওয়াকফের সম্পত্তি এবং খালি না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ বাড়িতে ফেলে রাখা যাবে না সোনা ! তালাবন্ধ সোনা তুলে আনতে বড় সিদ্ধান্ত মোদীর
সবচেয়ে বেশি বিতর্কের বিষয় হল, গ্রামের হিন্দু দেবস্থান ও শিবলিঙ্গকেও কবরস্থান বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, এই মন্দির ও শিবলিঙ্গ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের পূজার স্থান। এখানে কোনো কবরস্থানের অস্তিত্বই নেই।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাখনি গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলো বহু প্রজন্ম ধরে বাস করছেন। তাদের কাছে জমির দলিল, পুরনো কাগজপত্র রয়েছে। বোর্ডের দাবি অনুসারে, এই জমি নাকি একসময় কাদির খান নামে এক ব্যক্তির ছিল এবং তিনি ওয়াকফকে দান করেছিলেন।
কিন্তু গ্রামবাসীরা এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, গ্রামে কখনো এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বই ছিল না। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, বোর্ড কোন প্রমাণের ভিত্তিতে এই দাবি করছে? এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট দলিল বা ঐতিহাসিক প্রমাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনায় গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রামবাসীরা কালেক্টরেটে গিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। হিন্দু সংগঠনগুলোও এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। অনেকে এটিকে সাধারণ মানুষের জমি দখলের অপচেষ্টা বলে মনে করছেন। মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি যাতে আইনি পথে দ্রুত সমাধান হয়, সেজন্য প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ওয়াকফ বোর্ডের এই ধরনের দাবি নতুন নয়।
আরও দেখুনঃ নজরে ভারত-জাপান সম্পর্ক! মোদী সাক্ষাতে ৩ দিনের সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াকফ সম্পত্তির নামে জমি-জমা নিয়ে বিতর্ক বারবার উঠে এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের কিছু ধারা বোর্ডকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছে, যা অনেক সময় অপব্যবহার হয়। অন্যদিকে, বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা শুধু পুরনো দানকৃত সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করছে। কিন্তু যখন কোনো প্রমাণ ছাড়াই বসবাসরত মানুষের বাড়িঘর ও পূজার স্থানের ওপর দাবি ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়।


