বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ভারতীয় মহিলা ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার আবারও এশিয়ার মঞ্চে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। বৃহস্পতিবার এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রাথমিক পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ‘এ’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে লাল-হলুদ। ড্র অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ হবে আয়োজক দেশের সাবাহ এফএ (মালয়েশিয়া), বাংলাদেশের রাজশাহী স্টার্স এফসি এবং গুয়ামের রোভার্স এফসি। শক্তির বিচারে এই গ্রুপকে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। ফলে মূলপর্বে ওঠার ভালো সুযোগ রয়েছে ভারতের এই ক্লাবের সামনে।
ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ (IWL) জিতে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করেছে ইস্টবেঙ্গল। গত মরশুমেও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল তারা এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছিল। প্রাথমিক পর্ব সফলভাবে পার করে মূলপর্বে পৌঁছেছিল লাল-হলুদ। সেখানে চিন, ইরান এবং উজবেকিস্তানের শক্তিশালী ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে খেলেও নিজেদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্বে জয় তুলে এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাচ জেতা প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাসও গড়েছিল ইস্টবেঙ্গল।
এবারও সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখাই লক্ষ্য দলের। প্রাথমিক পর্বের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায়। প্রতিযোগিতা হবে সিঙ্গেল রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের বাকি তিনটি দলের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষে থাকা দল সরাসরি মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
এবারের প্রাথমিক পর্বে মোট ২৪টি দল অংশ নিচ্ছে। তাদের ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দল মূলপর্বে পৌঁছবে। সেখানে আগে থেকেই জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে ছয়টি শক্তিশালী ক্লাব। তারা হল উত্তর কোরিয়ার নায়েগোহিয়াং উইমেন্স এফসি, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটি এফসি, দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াচেওন কেএসপিও ডব্লিউএফসি, জাপানের আইএনএসি কোবে লিওনেসা, চিনের বেজিং জিংতান এফসি এবং ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি উইমেন্স এফসি।
প্রাথমিক পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে মূলপর্বের ড্র। এরপর নভেম্বর মাস থেকে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের লড়াই। গতবারের অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এবারও বড় স্বপ্ন দেখছে ইস্টবেঙ্গল। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেড়েছে। যদি দল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারে, তবে টানা দ্বিতীয়বার মূলপর্বে ওঠার পাশাপাশি এশিয়ার সেরাদের বিরুদ্ধে আবারও লড়াই করার সুযোগ তৈরি হবে। ভারতীয় মহিলা ফুটবলের জন্যও এটি হতে পারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের অধ্যায়।


