ফুটবলের চিত্রনাট্য কখনও কখনও বড়ই নিষ্ঠুর হয়। একদিকে বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) স্বপ্নভঙ্গের তীব্র যন্ত্রণা, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই জীবনের অন্যতম বড় স্বজন হারানোর খবর! ইংল্যান্ডের কাছে হেরে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার দিনেই এমন এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির সাক্ষী থাকল গোটা ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচের পর নিয়মমাফিক সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন কঙ্গোর কোচ সেবাস্টিয়ান ডিস্যাব্রে। ম্যাচের বিশ্লেষণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছিলেন। তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না, কী ভয়ানক দুঃসংবাদ তাঁর জন্য অপেক্ষা করে আছে! হঠাৎই মাঝপথে সাংবাদিক বৈঠক থামিয়ে দেন দলের মিডিয়া অফিসার। ফরাসি ভাষায় কোচকে তিনি জানান যে, তাঁর বাবা আর নেই। খবরটা কানে যেতেই যেন পাথর হয়ে যান ডিস্যাব্রে। শোকস্তব্ধ মুখে ফরাসিতে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করেন, ‘মার্সি’ (ধন্যবাদ)। এরপর বৈঠক অসম্পূর্ণ রেখেই ধীর পায়ে বেরিয়ে যান তিনি।
অথচ এই দিনটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত কঙ্গোর জন্য। গোলকিপার এমপাসি এদিন তেকাঠির নিচে যেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, একাই রুখে দিচ্ছিলেন একের পর এক আক্রমণ। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে রূপকথার জন্ম দেওয়ার স্বপ্নই দেখছিল কঙ্গো। কিন্তু শেষবেলায় ইংল্যান্ডের ত্রাতা হয়ে ওঠেন হ্যারি কেন। প্রথমে সমতা ফেরানো এবং পরে তাঁরই পা থেকে আসে জয়সূচক গোলটি।
কঙ্গোর লড়াই থামিয়ে দিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে চলেছে থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের জয়ের চেয়েও, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়বেলায় ডিস্যাব্রের জীবনের এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি ফুটবল দুনিয়াকে একরাশ বিষণ্ণতায় স্তব্ধ করে দিয়ে গেল।


