কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আপাতত দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে এই অ্যাকাউন্টগুলি খুলে ন্যূনতম দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই প্রক্রিয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ()
আদালতের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রে পুলিশ
শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে, অভিযোগ দায়েরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি জানান, যে অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার আগে ওই অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না। তাহলে পুলিশ কোন ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিল, সেই প্রশ্নই এখন আদালতের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাল্টা সওয়াল সলিসিটর জেনারেলের
অন্যদিকে, আদালতের প্রশ্নের উত্তরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট এবং কীভাবে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ‘সাইফন’ বা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য আদালতকে জানানো হবে। মেহেতা আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন একাধিক গোষ্ঠী ও নেতা রয়েছে, যারা আলাদা আলাদা বয়ান দিচ্ছেন। প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কারা, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট চালুর নির্দেশ দেওয়া আইনিভাবে জটিল হতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট
রাজ্যে পালাবদলের পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠির ভিত্তিতে পুলিশ দলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দেয়। পরে গত সোমবার মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস সেই অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতে মমতাপন্থী পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন, রাজনৈতিক দলকে পঙ্গু করার লক্ষ্যেই পুলিশ দিয়ে তড়িঘড়ি এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ককে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে কোন যুক্তিতে ও কী প্রেক্ষিতে তারা এই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় করেছে এবং বর্তমানে সেখানে কত টাকা জমা আছে। এই হলফনামা দেখার পরেই অ্যাকাউন্ট চালু করার বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেবে আদালত। আদালতের এই পদক্ষেপের দিকে এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর রয়েছে।


