নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংশোধন (8th Pay Commission)নিয়ে বড় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কর্মচারী ইউনিয়নগুলো জোরালোভাবে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানাচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সর্বনিম্ন মৌলিক বেতন ৬৯,০০০ টাকায় উন্নীত হবে। কিন্তু সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, অষ্টম বেতন কমিশনের ফাইনাল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সম্ভবত সপ্তম বেতন কমিশনের মতোই ২.৫৭-এর কাছাকাছি থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।কর্মচারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাদের যুক্তি, মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে এই উচ্চ হার প্রয়োজন। যদি এটি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে লাখ লাখ কর্মচারীর বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আরও দেখুনঃ কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে মন্দিরের উৎসবে হামলা! গ্রেফতার বিজেপি নেতা!
অনেক কর্মচারী বলছেন, “আমাদের দাবি যৌক্তিক। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। সরকার যেন আমাদের কথা শোনে।”কিন্তু সরকারি মহল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭-এর আশেপাশেই থাকবে। এর ফলে বেতন বৃদ্ধি হবে, কিন্তু ইউনিয়নগুলোর দাবির তুলনায় কম। বর্তমান ডিয়ারনেস অ্যালাউয়েন্স (ডিএ) মূল বেতনের সঙ্গে মার্জ করা হবে। মার্জের পর ডিএ শূন্যে নেমে আসবে এবং নতুন বেতন কাঠামো অনুসারে ভবিষ্যতে ডিএ বৃদ্ধি হবে।
এই প্রক্রিয়া কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দিতে পারে।কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য এটি সাম্প্রতিককালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেতন সংশোধন। লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। একজন কেন্দ্রীয় কর্মচারী বলেন, “বাড়ির খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা সবকিছুর খরচ বেড়েছে। যদি বেতন যথেষ্ট না বাড়ে, তাহলে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”
অন্যদিকে সরকার বলছে, আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অতিরিক্ত ব্যয় যাতে জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ না ফেলে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসতে পারে। যদি ২.৫৭-এর কাছাকাছি থাকে, তাহলে ইউনিয়নগুলো আরও আন্দোলনের ডাক দিতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা সম্ভব হবে।





