বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরাজয়ের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ‘ওমেন্স ইন ব্লু’-কে। এই ব্যর্থতার পর অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur) ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। তবে সেই জল্পনায় ইতি টেনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আবারও হরমনপ্রীতের উপর আস্থা রেখেছে।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান গেমসের জন্য যে ভারতীয় মহিলা দল ঘোষণা করা হয়েছে, তার নেতৃত্বে থাকছেন হরমনপ্রীত কৌরই। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন অভিজ্ঞ ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারকেই এশিয়ান গেমসের জন্যও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচকরা মনে করছেন যে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও এই দলটির উপর এখনও ভরসা করা যায় এবং তারা ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ভারত গত আসরে সোনার পদক জিতেছিল। সেই সাফল্য ধরে রাখাই এবার দলের প্রধান লক্ষ্য। তাই বোর্ড কোনও পরীক্ষামূলক দল না পাঠিয়ে অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী দলই বেছে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য এই প্রতিযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলে জায়গা পেয়েছেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষও। তাঁর উপস্থিতি দলের ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই বড় শক্তি যোগ করবে। এছাড়া অলরাউন্ডার শ্রেয়াঙ্কা পাটিলকেও দলে রাখা হয়েছে। তবে তাঁকে চূড়ান্তভাবে খেলতে হলে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিশ্বকাপ চলাকালীন গোড়ালির চোটের কারণে তিনি ছিটকে গিয়েছিলেন। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম প্রকাশ করেছে। যদিও ভারতীয় মহিলা দল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে, তবুও এশিয়ার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল হওয়ায় তারা অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের পরিকল্পনায় এশিয়ান গেমস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র আরেকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের অলিম্পিক প্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। কোন ক্রিকেটার বড় প্রতিযোগিতার চাপ সামলাতে পারেন, কারা দীর্ঘমেয়াদে দলের মূল ভরসা হতে পারেন, সেসব বিষয়ও এই আসরে মূল্যায়ন করা হবে। তাই সোনার পদক জয়ের পাশাপাশি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলার লক্ষ্যও থাকবে ভারতীয় শিবিরের।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এশিয়ান গেমসে নামতে প্রস্তুত ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। বিসিসিআইয়ের আস্থা, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং অলিম্পিককে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতা ভারতের মহিলা ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





