নয়াদিল্লি: সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরের আগে ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল এবং ভারতীয় সেনার আধুনিকীকরণ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনের যুদ্ধগুলি হবে অত্যন্ত তীব্র এবং বহুলাংশে প্রযুক্তি-নির্ভর। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত যখন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তখন ভারতীয় সেনা মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপূরণ করেছে। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তির মেলবন্ধনেই এই সাফল্য মিলেছে, যা ভারতের সংকল্প, সক্ষমতা এবং সংযমের চূড়ান্ত প্রমাণ।
সেনাবাহিনীর কাঠামোগত রূপান্তর সম্পর্কে বিদায়ী সেনাপ্রধান জানান, আধুনিকীকরণ মানে এখন আর শুধু নতুন অস্ত্র কেনা নয়, প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদেরও পরিবর্তন করা হচ্ছে। প্রযুক্তি-নির্ভর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সেনায় যুক্ত হচ্ছে ‘রুদ্র ব্রিগেড’, ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’, ‘অশনি ড্রোন প্লাটুন’ এবং ‘দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি’-র মতো অত্যাধুনিক কাঠামো। ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আকাশপথে নজরদারি ও যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি শত্রু-ড্রোন মোকাবিলায় সেনার বিভিন্ন স্টেশনে সেন্সর ও জ্যামার-যুক্ত অ্যান্টি-ড্রোন হাবও গড়ে তোলা হয়েছে।
‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর মত, সেনাকে আরও তরুণ, ফিট ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। অগ্নীবীরদের থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া মিললেও, প্রথম ব্যাচের মেয়াদ শেষ না হওয়ায় এখনই এর চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় আসেনি বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বা উত্তর সীমান্তের পরিস্থিতিকে তিনি ‘স্থিতিশীল কিন্তু সংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সেনাপ্রধান জানান, ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে বছরে হাজারেরও বেশি গ্রাউন্ড-লেভেল বৈঠক হয়। শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।





