রাম মন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগ, আগেই কর্মী বদলের পরামর্শ দিয়েছিল SBI

রাম মন্দিরে অনুদানের নগদ অর্থ গণনায় অনিয়মের আশঙ্কায় আগেই কর্মী বদলের সুপারিশ করেছিল SBI। SIT তদন্তের পর মামলায় ইতিমধ্যেই আটজন গ্রেফতার।

ram-mandir-donation-scam-sbi-warning-before-theft

অযোধ্যা: অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ram Mandir) অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ সামনে আসার কয়েক মাস আগেই নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI)। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কায় ওই কর্মীদের বদল করার সুপারিশও করেছিল ব্যাঙ্ক।

সূত্রের খবর, প্রায় তিন মাস আগে মন্দিরের দানবাক্স থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ গণনার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এসবিআই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কয়েকজন সদস্যের হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি বলে অভিযোগ।

   

অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাস্টের কিছু কর্তা আউটসোর্সিং সংস্থাকে ওই কর্মীদের অপসারণ করতে বাধা দেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Also Read | নিশানায় শিলিগুড়ি করিডোর? বাংলাদেশে চিনের এন্ট্রি ভারতের জন্য কতটা বিপজ্জনক?

আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন

সূত্রের দাবি, নগদ অর্থ গণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীরা একটি আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁদের মাসিক বেতন ছিল ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, তবে ট্রাস্টের সদস্য নন এমন কয়েকজন ব্যক্তি আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কেন এসবিআই নিজেদের স্থায়ী কর্মীদের বদলে আউটসোর্সিং কর্মীদের ব্যবহার করছে।

SIT রিপোর্টের পর দায়ের হয় FIR

উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন এফআইআর দায়ের করা হয়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মামলায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

তদন্তকারীদের দাবি, টিন্নু যাদবই তাঁর আত্মীয় তথা সহ-অভিযুক্ত মনীশ কুমার যাদবকে মন্দিরের নগদ অর্থ গণনার কাজে নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন।

Also Read | রাম মন্দির তহবিল কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের হয়ে লড়বে না কোনও আইনজীবী!

উদ্ধার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা

তদন্তে এখনও পর্যন্ত ধৃত আটজনের মধ্যে ছয়জনের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ, কিছু বিদেশি মুদ্রা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

১৪ দিনের জেল হেফাজতে অভিযুক্তরা

সোমবার স্থানীয় বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালতের বিচারক রজত বর্মা আট অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা জেল হেফাজতেই থাকবেন।

আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। তাই তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা প্রয়োজন। তদন্তে নতুন তথ্য মিললে পরবর্তী সময়ে পুলিশ হেফাজতের আবেদনও করা হতে পারে।