শ্রীনগর: কাশ্মীরের ইতিহাসে এক নৃশংস অধ্যায়ের ৩৫ (Sarla Bhat)বছর পর আশার আলো দেখা দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাটের অপহরণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার মামলায় ৭৩৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করতে চলেছে।
এতে জেকেএলএফ নেতা ইয়াসিন মালিককে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নামানো হয়েছে। সঙ্গে আরও চারজনের নাম রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরলার পরিবার ও কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি বড় মাইলফলক।১৯৯০ সালের ১৮ এপ্রিল। শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসের (এসকেআইএমএস) নার্স হোস্টেল থেকে ২৭ বছরের সরলা ভাটকে অপহরণ করা হয়।
আরও দেখুনঃ নাবালিকাকে জোর করে গোমাংস-সৌদিতে বিক্রির হুমকি! যোগী রাজ্যে পুলিশের জালে আরমানের পরিবার
চার দিন পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় শ্রীনগরের কাদালবাল এলাকায়। শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত এবং নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল তিনি ‘মুখবির’ বা পুলিশের গুপ্তচর। জেকেএলএফ জঙ্গিরা এই হত্যার দায় স্বীকার করে। সেই সময় কাশ্মীরে সন্ত্রাসের ঢেউ উঠেছিল। হিন্দু সংখ্যালঘু কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে নির্মম অত্যাচার শুরু হয়।
হাজার হাজার পণ্ডিত পরিবার ঘরছাড়া হয়। সরলা ভাটের হত্যা সেই অন্ধকার অধ্যায়ের এক ভয়াবহ উদাহরণ।দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মামলা ফাইলের ধুলোয় ঢাকা পড়ে ছিল। কাশ্মীরের তৎকালীন সন্ত্রাসের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাবে তদন্ত এগোয়নি। অনেকেই বলেন, এটি ছিল ন্যায়বিচারের প্রতি অবিচার। কিন্তু ২০১৯ সালের পর কাশ্মীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় এসআইএ বৈজ্ঞানিক তদন্ত শুরু করে।
মামলাটি পুনরায় খোলা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা উপনীত হয়েছেন যে, তৎকালীন জেকেএলএফের প্রধান কমান্ডার ইয়াসিন মালিকসহ অন্যরা এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। চার্জশিটে মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনজন মারা গেছেন, একজন পাকিস্তানে পালিয়ে আছেন বলে মনে করা হয়।ইয়াসিন মালিকের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
তিনি একসময় ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছিলেন। ইউপিএ আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সংলাপের অংশ হিসেবে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আজ সেই ব্যক্তিকে এক নার্সের নৃশংস হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বলে অভিযোগ উঠছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যাঁরা জঙ্গিদের সঙ্গে আপস করেছিলেন, তাঁরা কি এই পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চাইবেন?
সরলার পরিবার এখনও কাশ্মীরে ফিরে যেতে পারেনি। তাঁদের ক্ষত এখনও তাজা।এসআইএ-র এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘দেরিতে হলেও ন্যায়’ বলে অভিহিত করছেন। কাশ্মীরে সন্ত্রাস কমে আসার পর পুরনো অমীমাংসিত মামলাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি শুধু একটি মামলা নয়, বরং হাজার হাজার উদ্বাস্তু পণ্ডিতের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রতীক। সরলা ভাটের মতো অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের স্মৃতি এখনও কাশ্মীরের উপত্যকায় বেঁচে আছে।


