ব্রিটেনে মাদক চক্রে দোষী ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিনজন, কারাদণ্ড ম্যাজিস্ট্রেটেরও

হেরোইন ও ক্র্যাক কোকেন পাচারচক্র পরিচালনার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিনজনকে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটেনের আদালত। অভিযুক্তদের একজন কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

uk-jails-three-indian-origin-men-drug-gang-magistrate-convicted

লন্ডন: ব্রিটেনে হেরোইন ও ক্র্যাক কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র (Drug Gang) পরিচালনার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিন ব্যক্তিকে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন গ্রেফতারের সময় কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ৫৯ বছর বয়সি পুরশোত্তম ধিল্লনকে লন্ডনের ক্রয়ডন ক্রাউন কোর্ট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন।

   

এছাড়া, মাদকচক্রের মূলচক্রী বলে অভিযুক্ত হারদীপ থিন্দ (৪৮)-কে ১২ বছর ৬ মাস এবং বিক্রমজিৎ ব্রার (৪৬)-কে ৩ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশালিস্ট ক্রাইম ইউনিটের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর মার্ক গ্যাভিন বলেন, “এটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিস্তৃত তদন্ত। এই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ ক্লাস-এ মাদক সরবরাহ করছিল।”

তিনি আরও বলেন, “একজন কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ধিল্লন জনসাধারণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার করেছেন। এই মামলাটি প্রমাণ করে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং অপরাধে জড়িত প্রত্যেককেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

দীর্ঘ তদন্তে উঠে আসে চক্রের নেটওয়ার্ক

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত লন্ডনে হেরোইন ও ক্র্যাক কোকেন সরবরাহকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়। কল ডেটা রেকর্ড, ফরেনসিক প্রমাণ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গোটা নেটওয়ার্কের কার্যকলাপের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্র প্রায় এক লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের মাদক সরবরাহ করেছিল।

পুলিশের দাবি, হারদীপ থিন্দ গোটা নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও মাদক সরবরাহের নির্দেশ দিতেন। পুরশোত্তম ধিল্লন মাদক, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। বিক্রমজিৎ ব্রার মাদক মজুত ও বিতরণের কাজ করতেন। এছাড়া, লিঞ্চ নামে আরও এক অভিযুক্ত বার্তাবাহক ও সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর গ্যাভিন বলেন, “কাউন্টি লাইনস মাদক পাচার শুধু মাদক ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দুর্বল মানুষদের শোষণ করে এবং সমাজে হিংসা বাড়ায়। এই ধরনের অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”