কলকাতার খুব কাছে ড্রাগনে নিঃশ্বাস! হাতছাড়া মোংলায় চিনা চুক্তিতে উদ্বিগ্ন সাউথ ব্লক

কলকাতা: কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার। সুন্দরবনের একেবারে দোরগোড়ায়, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে এবার সরাসরি ঢুকে পড়ল চিন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর…

China economic zone near Bangladesh

কলকাতা: কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার। সুন্দরবনের একেবারে দোরগোড়ায়, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে এবার সরাসরি ঢুকে পড়ল চিন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরেই বেজিংয়ে গিয়েছেন তারেক রহমান। সেখানে তিস্তা প্রকল্পে চিনা সহায়তার আর্জি জানানোর পাশাপাশি, মোংলার কাছে একটি ‘ইকোনমিক জোন’ বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার জন্য চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে তারেক সরকার। আর এই চুক্তিতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে নয়াদিল্লি। (China economic zone near Bangladesh)

সবচেয়ে তাৎপর্যের বিষয় হল, যে জমিতে চিন এই প্রকল্প গড়বে, সেটি আদতে ভারতের জন্যই বরাদ্দ ছিল। ২০১৫ সালে শেখ হাসিনার আমলে মোংলা ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরিতে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি হয়। ২০১৮ সালে মোংলার ইকোনমিক জোন গড়ার বরাত পায় ভারতের হিরানন্দানি গ্রুপ। কিন্তু ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টতই ভারত-বিরোধী অবস্থান নেয়। ‘কাজে দেরি’র অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালে নয়াদিল্লিকে এই প্রকল্প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেয় ঢাকা। আর এবার সেই একই বাতিল হওয়া জমিতে চিনা বিনিয়োগকে সিলমোহর দিয়ে দিল তারেক রহমানের নয়া সরকার।

   

কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের জন্য চরম উদ্বেগের। ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ১৭টি বন্দর প্রকল্পে জাল বিস্তার করেছে চিন। তাদের আমদানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশই যায় এই জলপথ ধরে। ফলে বঙ্গোপসাগরে ভারতের একেবারে নাকের ডগায় চিনা উপস্থিতি বেজিংয়ের কাছে এক বিরাট ‘স্ট্র্যাটেজিক’ জয়।

বন্দর প্রকল্প মানেই সামরিক ঘাঁটি নয় ঠিকই, কিন্তু অতীতে বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিকাঠামো গড়ার আড়ালে বেজিংয়ের গুপ্তচরবৃত্তি এবং নজরদারির একাধিক নজির রয়েছে। ভারতের পূর্ব উপকূলের এত কাছে চিনা নজরদারির সেই সম্ভাবনাতেই এখন ঘোর উদ্বিগ্ন সাউথ ব্লক। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ নয়াদিল্লির বিদেশনীতি ও কৌশলগত নিরাপত্তার সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।