মুম্বই: মুম্বইয়ের রাস্তায় গরম ভাজা পকোড়া বা সুস্বাদু বড়া পাও কিনলে (maharashtra)অনেকেই দেখেছেন, সেই খাবার মোড়ানো হয় পুরনো খবরের কাগজের ঠোঙায়। সেই অভ্যাস এবার মহারাষ্ট্রে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) যৌথভাবে খবরের কাগজ ও রিসাইকেল করা প্রিন্টেড কাগজ দিয়ে খাবার পরিবেশন, মোড়ানো বা সংরক্ষণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাপার কালি ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাওয়া রোধ করা।সম্প্রতি মুম্বইয়ে একটি বড়া পাও বিক্রেতার দোকানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, তিনি খাবার মোড়ানোর জন্য খবরের কাগজ ব্যবহার করছেন। এই ঘটনার পরই এফএসএসএআই ও মহারাষ্ট্র এফডিএ সারা রাজ্যে কড়া অভিযান শুরু করে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ৫৫টি খাবারের দোকান পরীক্ষা করে ২৬টিতে এই নিষিদ্ধ প্রথা দেখা যায়।
আরও দেখুনঃ পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়! বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণায় বিতর্ক
দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাস্তার খাবার বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারার বা যেকোনো ফুড বিজনেস অপারেটর যদি খবরের কাগজ ব্যবহার করেন, তাহলে তাদের জরিমানা থেকে শুরু করে লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।কেন এই নিষেধাজ্ঞা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খবরের কাগজে ব্যবহৃত প্রিন্টিং ইঙ্কে থাকে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক, পিগমেন্ট, মিনারেল অয়েল, ভারী ধাতু যেমন লেড এবং অন্যান্য টক্সিক উপাদান।
গরম, তৈলাক্ত বা ভেজা খাবার যখন এই কাগজে মোড়ানো হয়, তখন এসব রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। দীর্ঘদিন এমন খাবার খেলে লিভার-কিডনির ক্ষতি, খাদ্য বিষাক্ততা এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এছাড়া খবরের কাগজ ধুলো, ময়লা ও জীবাণু বহন করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও বিপজ্জনক।
এফএসএসএআইয়ের ২০১৮ সালের প্যাকেজিং রেগুলেশন অনুসারে এই প্রথা আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় এখনও চলছিল। মহারাষ্ট্র এফডিএ কমিশনারের নেতৃত্বে এবার সত্যিকারের কড়া প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, খাবার মোড়ানোর জন্য শুধুমাত্র ফুড-গ্রেড পেপার, অ্যাপ্রুভড প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল বা অন্যান্য নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করতে হবে।



