প্রাক্তন মেয়রের সই! তারতলা-কাণ্ডে কাঠগড়ায় ফিরহাদ, ছাড়ব না, হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের…

কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি এবং টাকার প্রতি লোভের কারণেই আজ কলকাতাজুড়ে এই মৃত্যুফাঁদ তৈরি হয়েছে। দোষীদের কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ হিসেবে কলকাতা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী চার সপ্তাহের জন্য সমস্ত রকম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতার ৫, কাঠগড়ায় প্রাক্তন মেয়র

বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলা বিপর্যয়ের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট’ ইতিমধ্যেই নবান্নের হাতে এসে পৌঁছেছে এবং তদন্তে নেমে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর পরেই তিনি সরাসরি নিশানা করেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে।

   

শুভেন্দু জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই গুদামঘরের বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদন করেছিল পুরসভা। সেই অনুমোদনের নথিতে খোদ প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে বলে দাবি করে বিধানসভায় কাগজটি প্রদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে পুরসভার এগজ়িকিউটিভ থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “কাউকে রেয়াত করা হবে না। নতুন আইন আসছে। দরকারে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অভিযুক্তদের জেল খাটাব।”

৪ সপ্তাহ বন্ধ প্রোমোটিং, চলবে অডিট

বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুর এলাকা তো বটেই, পাশাপাশি রাজারহাট-নিউ টাউন, সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, বজবজ এবং বিষ্ণুপুরের গ্রামীণ অঞ্চলে সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকাগুলিতে পাশ হওয়া সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যানের অডিট করবে প্রশাসন।

‘১৫ বছরে বদলায়নি যন্ত্রপাতি’

উদ্ধারকাজে বেগ পাওয়ার কারণ হিসেবেও আগের সরকারকেই দুষেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন প্রশাসনের এই গাফিলতিকে ‘বিগত সরকারের পাপের ফল’ বলে আখ্যা দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় লোহা কাটার মেশিন বা ভারী যন্ত্রপাতি কিছুই বদলায়নি আগের সরকার।

গার্ডেনরিচের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি উসকে তিনি বলেন, “গার্ডেনরিচে ১৪ জন মারা গিয়েছিল, কিন্তু আপনারা এনডিআআরএফ বা সেনাকে ঢুকতেই দেননি। ভারী বিম কাটার কোনও আধুনিক পেশাদার মেশিন আগের সরকার রাখেনি। কেন রাজ্যের এই সর্বনাশ করে গিয়েছেন?” তিনি জানান, এবার বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসাতেই তারাতলায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।