মুম্বই: ভারতের সিএনজি গাড়ির বাজারে ইতিমধ্যেই নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে টাটা মোটরস। সংস্থার i-CNG প্রযুক্তি এবং ডুয়াল-সিলিন্ডার সেটআপ ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে টাটা অলট্রোজেও (Tata Altroz ) সেই প্রযুক্তি উপলব্ধ। এবার পুনের রাস্তায় একটি নতুন অলট্রোজ টেস্ট মিউল দেখা যাওয়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নতুন কী চমক আনতে চলেছে টাটা?
কী দেখা গেল টেস্ট মিউলে?
ছদ্মবেশে ঢাকা গাড়িটি নিয়ে পরীক্ষামূলক চালনা চললেও একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। স্টিয়ারিং হুইলে লাগানো স্টিকারে স্পষ্ট লেখা ছিল “CNG Only”।
সম্প্রতি টাটা মোটরস তাদের মডেল লাইনে আরও পারফরম্যান্সভিত্তিক বিকল্প যোগ করছে। তার বড় উদাহরণ পাঞ্চ টার্বো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অলট্রোজেও টার্বো-পেট্রোলের সঙ্গে সিএনজি প্রযুক্তির সংমিশ্রণ আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে নেক্সনে এই ধরনের ইঞ্জিন বিকল্প রয়েছে।
Also Read | E20 জ্বালানিতে বিমা বাতিল হবে না, বিভ্রান্তি দূর করল কেন্দ্র
কেন নতুন ইঞ্জিন দরকার অলট্রোজের?
টাটার বর্তমান পোর্টফোলিওতে এসইউভি মডেলগুলির জনপ্রিয়তার আড়ালে কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে অলট্রোজ। ক্রমশ হ্যাচব্যাকের বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিক্রিও কমছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে সাফারি ইভি বাজারে এলে অলট্রোজই টাটার একমাত্র মডেল হবে যার কোনও বৈদ্যুতিক সংস্করণ থাকবে না।
বর্তমানে অলট্রোজের অন্যতম বড় শক্তি হল এটি ভারতের একমাত্র ডিজেল হ্যাচব্যাক। তবে এখনও পর্যন্ত এতে কোনও টার্বো-পেট্রোল বিকল্প নেই। ২০২৬ সালের মে মাসে হ্যাচব্যাক বিক্রির তালিকায় অলট্রোজ ১১ নম্বরে ছিল এবং বিক্রি ৩ হাজার ইউনিটেরও কম ছিল। ফলে নতুন কিছু আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।
Also Read | Auto India: কিয়া সনেট না সিট্রোয়েন সি৩, ১০ লাখে কোন গাড়ি সেরা
বর্তমানে কী কী ইঞ্জিন রয়েছে?
এখন অলট্রোজে পাওয়া যায়:
• ১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল
• একই ইঞ্জিনের সিএনজি সংস্করণ
• ডিজেল ইঞ্জিন
এর আগে অলট্রোজ টার্বো-পেট্রোলের পরীক্ষামূলক গাড়িও দেখা গিয়েছিল। সর্বশেষ টেস্ট মিউল দেখে মনে করা হচ্ছে, এবার সেই টার্বো ইঞ্জিনের সঙ্গে সিএনজি প্রযুক্তিও যুক্ত হতে পারে।
বর্তমান অলট্রোজ i-CNG ইঞ্জিন ৭২ বিএইচপি শক্তি এবং ১০৩ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। সেখানে টার্বো সিএনজি সংস্করণ এলে শক্তি ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নতুন অস্ত্র?
টাটা সম্প্রতি পাঞ্চে ৬-স্পিড ম্যানুয়ালসহ টার্বো ইঞ্জিন এনেছে, যদিও সেই গাড়ির জন্য এটি খুব জরুরি ছিল না। অন্যদিকে অলট্রোজের ক্ষেত্রে এমন একটি শক্তিশালী বিকল্পের প্রয়োজন অনেকদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টার্বো-পেট্রোল সিএনজি অলট্রোজ বাজারে এলে তা শুধু বেশি মাইলেজই দেবে না, বরং পারফরম্যান্সের দিক থেকেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। এতে হুন্ডাই i20 N Line-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে টাটার এই প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক।
যদিও টাটা মোটরস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি, তবে পরীক্ষামূলক গাড়ির উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অলট্রোজের জন্য বড় আপডেট আর খুব বেশি দূরে নয়।


