কলকাতা: নিজেদের দেশে সমস্যার অন্ত নেই। (Suvendu Adhikari)কিন্তু তাতে কি আসে যায়। বাংলাদেশের সংসদের হট টপিক এখন এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে চলত চর্চা। অভিযোগ ছিল মোদী বাংলাদেশ বিরোধী। এবার সেখানে দোসর শুভেন্দু অধিকারী। সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এক রাশ অভিযোগের তীর ছুঁড়লেন বিএনপির এক সাংসদ।
জনৈক সাংসদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদশের তরফে অনুরোধ করা হোক যাতে শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য বন্ধ করেন। সমাজ মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হতেই ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সামাজিক মহল। অনেকেই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বুকে এত সমস্যা। কৃষি থেকে শুরু করে রোগের ওষুধ পর্যন্ত অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
আরও দেখুনঃ তারাতলা বিপর্যয়ে তৃণমূল যোগ! বেআইনি গোডাউনের নেপথ্যে আসগর?
এমনকি বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সেই ভারতের শরণাপন্ন হতে হয় বাংলাদেশকে এমনটাই মন্তব্য তাদের। এছাড়াও অনেকে বলেছেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শিশুদের যে মারণ রোগ সারা দেশে মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়েছে তার কোনও সুরাহা নেই তারা শুধুই ভারত এবং বাংলা বিরোধী মন্তব্য করে চলেছে। বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বাংলায় যতদিন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ছিল ততদিন এই পশ্চিমবঙ্গ ছিল অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য।
কেন্দ্র থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সীমান্ত অরক্ষিত করে রেখেছিলেন যাতে অনুপ্রবেশ হয় এবং তার সঙ্গে চোরাচালানকারীরা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে পারে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পরেই তিনি সীমান্তে বেড়া দেওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাসকারীদের পুশব্যাকের কথা স্পষ্ট করে দেন।
আর তাতেই এখন বাংলাদেশের সংসদে হট টপিক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে গতকালই শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যেই ১০০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং হোল্ডিং সেন্টারে এখনও ১৮০০ জন আটকে আছেন। তাদেরকেও পাঠানো হবে ভবিষ্যতে। পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক মহলের প্রশ্ন বাংলাদেশের সাংসদ শুভেন্দুকে থামতে বলছেন কিন্তু বাংলাদেশের মৌলবাদীরা যেভাবে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে।
হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরকে থামতে বলবে কে? গাইবান্ধায় যে বিশাল রামের মূর্তি নিয়ে বিতর্ক এবং উত্তেজনার পারদ চড়ছে তা কেন দমন করছে না তাদের রাজনীতিবিদরা। উল্টে তারেক রহমান মূর্তি তৈরিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং তা ভাঙাও হতে পারে এর বিরুদ্ধে সওয়াল করবে কে ?



