কলকাতা: তারাতলা ব্রেস ব্রিজের কাছে একটি নির্মীয়মাণ তিন তলা গোডাউনের লোহার ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটল। ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন শ্রমিক, গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বেআইনি এই নির্মাণের নেপথ্যে প্রভাবশালী প্রোমোটার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সামনে এসেছে। (Taratala warehouse roof collapse kills 3 workers)
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
জানা গিয়েছে, লজিস্টিকস সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর মালিক শম্ভু বেহরার এই চা-এর গুদামটি গত ৬-৭ মাস ধরে তৈরি হচ্ছিল। বুধবার লোহার বিমের ওপর কংক্রিটের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। প্রাথমিক অনুমান, সেই ঢালাইয়ের বিপুল ভার নিতে না পেরেই তিন তলার পুরো ছাদটি নীচে কর্মরত প্রায় ৫০-৬০ জন শ্রমিকের ওপর ভেঙে পড়ে।
হতাহত ও উদ্ধারকাজ
খবর পেয়েই পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারকাজে হাত লাগায় সেনাবাহিনী। বড় ক্রেন ও গ্যাস কাটার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮ জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএমের (SSKM) ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। বাকিদের মধ্যে দুর্বাশা মল্লম, মানিক চাঁদ কুমার, শাহিদ কুমার এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নবান্নের তরফে জরুরি ভিত্তিতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
কাঠগড়ায় প্রভাবশালী প্রোমোটার
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর এলাকার জমিতে তৈরি এই নির্মাণের জন্য কলকাতা পুরসভার (KMC) কোনও ছাড়পত্র বা এনওসি (NOC) নেওয়া হয়নি। গুদামটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ডেভেলপার আসগর খান। তাঁর প্রভাব খাটিয়েই কি পুরসভার চোখ এড়িয়ে লোহা ও টিনের এই বিপজ্জনক নির্মাণ চলছিল, তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন উঠেছে।
শ্রমিকদের সুরক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা এবং গাফিলতির কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যুফাঁদ তৈরি হওয়ায় দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলছেন স্থানীয়রা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।



