অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট যাচ্ছেন শতদ্রু দত্ত

কলকাতা: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ‘GOAT’ ট্যুর ইভেন্ট ঘিরে (Arup Biswas)বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। অনুষ্ঠানে টিকিট জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার…

arup-biswas-legal-protection-messi-case

কলকাতা: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ‘GOAT’ ট্যুর ইভেন্ট ঘিরে (Arup Biswas)বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। অনুষ্ঠানে টিকিট জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিলেন ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসের অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচ বহাল রাখার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত যুবভারতীতে আয়োজিত বহুল আলোচিত মেসি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান পরিচালনায় একাধিক অনিয়ম হয়েছিল এবং বহু দর্শক টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নামও উঠে আসে। অভিযোগকারীর দাবি, অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা প্রয়োজন।

   

আরও দেখুনঃ বিদ্রোহী শিবিরে কাজরী? ঋতব্রতদের বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছালে গত ১০ জুন সিঙ্গল বেঞ্চ অরূপ বিশ্বাসকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন শতদ্রু দত্ত। তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, “সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে।” তাঁর বক্তব্য, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান হওয়া উচিত এবং তদন্তের স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।

এরপর শুধু সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চেও সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। শতদ্রু দত্তের পক্ষে আইনজীবী অরিন্দম জানা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান যে, অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হোক এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া হোক।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি বিবেচনা করলেও অবিলম্বে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। আদালত আপাতত অরূপ বিশ্বাসের পাওয়া আইনি সুরক্ষা বহাল রেখেছে। ফলে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও তাঁকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দেওয়া মানেই অভিযুক্তকে নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। আদালত সাধারণত তদন্ত চলাকালীন কোনও ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এমন নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকেও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অনেক দূরের বিষয়।

রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের সমর্থকদের বক্তব্য, আদালতই প্রাথমিকভাবে অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে তাঁকে আইনি সুরক্ষা দিয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখা উচিত।