PM SHRI: কেরলে পিএম শ্রী প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ! জলকামান চালাল পুলিশ

তিরুবনন্তপুরম: কেরল বিধানসভার সামনে পিএম শ্রী (PM SHRI)স্কুল প্রকল্পের বিরুদ্ধে সিপিআইয়ের ছাত্র-যুব সংগঠনের প্রতিবাদ সোমবার উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করেছে।…

kerala-protest-pm-shri-project-water-cannon

তিরুবনন্তপুরম: কেরল বিধানসভার সামনে পিএম শ্রী (PM SHRI)স্কুল প্রকল্পের বিরুদ্ধে সিপিআইয়ের ছাত্র-যুব সংগঠনের প্রতিবাদ সোমবার উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করেছে। ঘটনার সময় সিপিআইয়ের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক কে. রাজন বিধানসভার সামনে জমায়েতকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই সিপিআইয়ের ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীরা বিধানসভার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং কালো পতাকা প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ যত তীব্র হয়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করে। ছাত্র-যুবকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে।

   

আরও দেখুনঃ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনে হামলার হুমকি ISI র তৈরী আজাদী পার্টির

কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।পিএম শ্রী (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া) হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এর আওতায় দেশজুড়ে নির্বাচিত সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মডেল স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়। কেরলেও এই প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি স্কুল নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু বামপন্থী দলগুলি, বিশেষ করে সিপিআই ও সিপিএম, এই প্রকল্পকে কেন্দ্রের ‘রাজনৈতিক এজেন্ডা’ বলে আখ্যায়িত করে আসছে।

তাদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্র রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে এবং স্কুলগুলিতে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা চলছে।বিধায়ক কে. রাজন বক্তব্যকালে বলেন, “এই প্রকল্প কেরালার শিক্ষার গৌরবকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। আমরা কখনোই কেন্দ্রের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেব না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশের জলকামান চালানো গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে দমনের চেষ্টা।

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করছিলেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জনসাধারণের সুবিধার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেরলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বাম সরকারের দীর্ঘদিনের অবদান স্বীকৃত। রাজ্যের সাক্ষরতার হার, শিক্ষার মান ও সরকারি স্কুল ব্যবস্থা দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে অনেকে ‘অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ’ বলে মনে করেন। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষা নীতির সঙ্গে কেন্দ্রের এই প্রকল্প সাংঘর্ষিক। কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছে, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন এবং রাজ্য চাইলে অংশ নিতে পারে।